হাকালুকি, কাউয়াদিঘী হাওরসহ নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ ও বর্গা নিয়ে চাষ করেছিলেন এই ফসল। এখন ঋণ আর মহাজনের দেনা শোধ করা নিয়ে দিশেহারা তারা। যে ধান কেটে মাঠে রাখা হয়েছিল, সেগুলো রোদ না পাওয়ায় হাওরেই আবার অঙ্কুরিত হয়ে নষ্ট হচ্ছে। আর বস্তাবন্দী করা ধানও পানিতে ভিজে অকেজো হয়ে পড়ছে।
কৃষকরা জানান, এগুলা থেকে আসলে ধান উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। কারণ সবগুলি ইয়া থেকে ধান থেকে আবার চারা গজিয়েছে এবং সব ধান এখানে যেগুলি আমরা ঝাপ দিয়ে রেখেছিলাম সেগুলি একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমাদের নিজেদের খাওয়ার জন্য ধানই এখন আমাদের পাওয়া কষ্টকর হবে, সেখানে আসলে আমরা সরকারের কাছে বিক্রি করব বা পাইকারদের কাছে বিক্রি করব এ অবস্থা কিন্তু নাই।
হাওরে পানি বেশি থাকায় ও রাস্তাঘাট ভাল না থাকায় হারভেস্টার মেশিন ঢুকিয়ে কাটা যাচ্ছেনা ধান, শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি মজুরীও চড়া। তেলের দাম বৃদ্ধি ও নষ্ট হওয়া ধানগুলো আটকে বারবার মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে ধান মাড়াই করতে প্রয়োজন হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থের। এমন অবস্থায় জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় রসদ যোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক।
আরও পড়ুন:
কৃষি অফিস বলছে, কৃষকদের প্রণোদনা দিতে ও সহযোগিতা করতে ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা। এখন শুধু জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ না দিয়ে যারা সরাসরি বোরো আবাদের সাথে জড়িত ছিলেন তাদেরকেও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে জানালেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা খবর শুনেছি ৭০০-৮০০ টাকা প্রতিটি লেবার দাবি করছে আসলে এই সিজনের পিক সময়ে সাধারণত এরকম হয়েই থাকে। তো আমাদের তো কম্বাইন হারভেস্টার আছে, নন-হাওরে আমাদের যে জমিগুলো আছে আমরা মনে করি যে আমরা কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে আমরা মেকআপ দিতে পারব। আমাদের ১৪৪টা কম্বাইন হারভেস্টার কিন্তু রানিং আছে ভালো আছে, ১৪৪টা যথেষ্ট পরিমাণে আছে কোনো অসুবিধা নেই।’
জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪২ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।





