শোকাহত রুপালি মূর্ছা যেতে যেতে বলছিলেন, ‘ওর বাবা রাস্তার অ্যাক্সিডেন্ট খুব ভয় পায়, ঈদে অ্যাক্সিডেন্ট হয়। এ কারণে ঈদের পর আমরা পরিবারের সবাই আমার বাবার বাড়ি ফুলপুরে রওনা হইছি ভালুকার স্কয়ার মাস্টার বাড়ি থেকে।
সারা রাস্তা আসছিলাম কত কথা বলে! হঠাৎ বিকট শব্দ, তারপর আমার হুঁশ নাই, কিছু বলতে পারমু না।’
আজ (শনিবার, ৩০ মে) সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ সদরের আলালপুরে পিকআপ-সিনএজির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় একটি সিএনজি, এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলে নিহত হয়। এছাড়া আহত হয়েছেন একি পরিবারের বড় ছেলে রাফি (৮)।
পারিবারিক এবং স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানায়, ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী রূপালী, আড়াই বছরের ছেলে রোহানসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে সিএনজি করে ফুলপুর যাচ্ছিলেন শশুরবাড়ি।
আরও পড়ুন:
পরে সদরের আলালপুর মহাসড়কে আসলে ফুলপুর থেকে দ্রুত গতিতে আসা পিকাপের সঙ্গে সিএনজিতে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলে জাহাঙ্গীর এবং আড়াই বছরের ছেলের রোহান মারা যান। আহত রাফিকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী চিকিৎসার জন্য পাঠায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর কর হয়। পরিবারের বাকি সদস্যরা খবর পেয়ে মরদেহ নিয়ে যায় জাহাঙ্গীরের বাড়ি হালুয়াঘাটের উদ্দেশে।
এদিকে ঘাতক পিকাপ চালক ও হেলপার গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, পালিয়ে যায় সিএনজিটির চালকও। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি ও পিকাপটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয় পুলিশ সদস্যরা। তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার।
ময়মনসিংহ সদরের বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াউর রহমান এখন টিভিকে জানান, আলালপুরসহ এই মহাসড়কে বেশিরভাগ দুর্ঘটনার কারণ গাড়ির বেপরোয়া গতি এবং মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল।
সদরের আলালপুর এক ভয়ংকর মৃত্য ফাঁদ, কত জীবন যে ধূলোর মতো আজীবনের জন্য হারিয়ে গেছে— এই মহাসড়ক তার সাক্ষী।





