সাতক্ষীরায় পৃথক স্থানে দু’জনের মরদেহ উদ্ধার

মরদেহের প্রতীকী ছবি
মরদেহের প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

সাতক্ষীরার সদর ও দেবহাটা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় এক নারী ও এক মৎস্যঘের কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দু’টি ঘটনাকে ঘিরেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন হাটখোলা এলাকায় গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৪ জুন) গভীর রাতে নিজ ঘর থেকে ওয়াহেদা সুলতানা শিমু (৩৮) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত মিয়ারাজ আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর ফাঁড়ি ও সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ঘরের বিছানার ওপর উপুড় হয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়দের দাবি, বুধবার সন্ধ্যার পর বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে তাকে সবশেষ দেখা গিয়েছিল।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের একটি মৎস্যঘের থেকে হায়াত আলী নামের এক কর্মচারীর ঝলসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ (শুক্রবার, ৫ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত হায়াত আলী পারুলিয়ার খাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের মৎস্যঘেরের কর্মচারী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিলো। এসময় স্থানীয়রা তার নাক-মুখ ফেটে যাওয়া এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়া উঠে যাওয়া ও ঝলসানোর মতো চিহ্ন দেখতে পান। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের ধারণা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া অথবা কোনো রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং পুকুরঘাটে গোসল করার সময় স্ট্রোক করে পড়ে গিয়ে মারা যান। নাক-মুখের আঘাত সেখান থেকেই হয়েছে বলে তাদের দাবি। শরীরের চামড়া উঠে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্গম ঘের এলাকা থেকে নেটের মধ্যে করে মরদেহ বহন করার সময় ঘর্ষণে এসব ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।

ঘের মালিক ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘেরে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। তার ধারণা, স্ট্রোকজনিত কারণেই হায়াত আলীর মৃত্যু হয়েছে।’

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এসএস