নদী ও বিলবেষ্টিত এ জনপদ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির এক অনন্য সমন্বয়। আর শতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়া এই গাছগুলো তারই জীবন্ত সাক্ষী।
মোঘল আমলের শেষে এবং জমিদারি আমলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ছায়াময় আবাস গড়ে তোলার জন্য রোপণ করা হয় অসংখ্য বৃক্ষ। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে সড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন অজুহাতে কেটে ফেলা হয় তেঁতুল, আম, গাব, হিজল, পাকড়, বটবৃক্ষসহ কয়েক প্রজাতির অন্তত ৫ শতাধিক গাছ।
বিভিন্ন সময় ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি গাছের তালিকা তৈরির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও এ বিষয়ে উদাসীন নড়াইল বন বিভাগ। গাছগুলো সংরক্ষণের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রমের তথ্য মেলেনি প্রশাসন থেকে। স্থানীয়রা জানায় জেলায় অর্ধশতাধিক শতবর্ষী গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু গাছের বয়স অন্তত দুইশো বছর। এসব গাছ কেবল অক্সিজেন নয়, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন
নড়াইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মো: শাহ আলম বলেন, ‘শতবর্ষী গাছগুলো কাটা হচ্ছে, যার জন্যেই পাখির যে অভয়ারণ্য বা পাখির যে খাবার এবং প্রকৃতির যে নিয়ন্ত্রণ, মানে তার যে এ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি।’
নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান কেয়া রেনু রায় বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার জোরালো আহ্বান থাকবে, এ গাছগুলিকে যেন কাটা না হয় এবং এই গাছগুলির যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।’
এদিকে, দ্রুত গাছগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে সেগুলোকে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগ।
নড়াইল ফরেস্ট রেঞ্জারের সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী ইশতিয়াক রহমান বলেন, ‘পশুপাখিগুলো বসবাস করে এবং অনেক সময় এ গাছকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মেলাও হয়ে থাকে। তো এ গাছগুলোর রক্ষায় আমাদের অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এবং বন বিভাগ এবং সরকার এবং স্থানীয় জনগণ সবার সঙ্গে মিলে আমরা এগুলো রক্ষায় অতি শীঘ্রই কাজ শুরু করব।’
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় শতবর্ষী গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব ও অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে এসব প্রাকৃতিক ঐতিহ্য।




