নড়িয়া উপজেলার ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। কিন্তু একের পর এক জটিলতা, ঠিকাদার পরিবর্তন আর কাজের ধীরগতিতে ৯ বছরে শেষ হয়েছে মাত্র অর্ধেক কাজ।
নদীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি অসমাপ্ত পিলার আর গার্ডার। নেই ভারি যন্ত্রপাতির শব্দ, শ্রমিক কিংবা প্রকৌশলীদের কর্মব্যস্ততা। ২ বছর ধরে বন্ধ সেতুর নির্মাণ কাজ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দফায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করলে কাজ পায় ফরিদপুরের জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও রেজাউল করিম জেভি। কার্যাদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে কাজ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাস হলেও এখনও মাঠে নামেনি নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
সেতুর অভাবে এখনও নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জের হাজারও মানুষ। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে ভোগান্তি যেন প্রতিদিনকার ঘটনা। স্থানীয়রা জানান, কেন কাজটি শেষ হচ্ছে না তা কেউই বলেন তারা।
দীর্ঘদিনের-এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আর কোনো অজুহাত নয়, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে শেষ করতে হবে।
শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী ১ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো।
৩২৭ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯ কোটি টাকা। এখন বাকি অর্ধেক কাজ শেষ করতে নতুন টেন্ডারে ব্যয় ধরা হয়েছে আরও ২১ কোটি টাকা। সময় আর ব্যয় বাড়লেও দ্রুত সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে-এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।





