গত শনিবার (৪ জুলাই) থেকে চলা বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে জেলাজুড়ে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই মধ্যে ৭ ও ৮ জুলাই অতি ভারী বর্ষণের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে।
আজ (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ৬০ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ৪৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস। এর মধ্যেই আবার নতুন করে ৯ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অতিবর্ষণ ও উজানের ঢলে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭ পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এছাড়া সেখানকার ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অভ্যন্তরীন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে। পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় সেখানে ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সেখানে ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১২২ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় সেখানে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
তবে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাজেকে আটকা পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৫০ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়ে গেছেন। বাকিরা এখনও সাজেকে আটকা পড়ে আছেন।
পাহাড়ধসের শঙ্কা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা, জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি এবং দুই পৌরসভা রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌর এলাকায় ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ৩৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তার জন্য দ্বিতীয় দিনের মতে জেলায় বন্ধ রাখা হয় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে তিনবেলা খাবারসহ স্যানিটেশন, সুপেয় পানি প্রদান করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সরবরাহ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।




