খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২৫ গ্রামের বেশি প্লাবিত; অবৈধ বালু উত্তোলনকে দায়ী স্থানীয়দের

পানির ঢলে ভেঙে গেছে ঘর
পানির ঢলে ভেঙে গেছে ঘর | ছবি: এখন টিভি
0

হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। আকস্মিক এ ঘটনায় রাতের আঁধারেই পরিবার-পরিজন ও গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে হয় হাজারও মানুষকে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে প্রায় ১০০ ফুটজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হতে শুরু করে।

রাতেই নোয়াবাদ, চরহামুয়া, আদ্যপাশা, বনগাঁও, কালীগঞ্জ, সুঘর, কটিয়াদিসহ আশপাশের অন্তত ২৫টির বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। অনেকেই ভাঙা বাঁধের ওপর, স্থানীয় স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেন।

এদিকে হবিগঞ্জ-মিরপুর আঞ্চলিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাতেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন:

কালীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘নদী থেকে সারা বছর বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পানির চাপ বাড়তেই বাঁধ ভেঙে গেছে। কয়েকজনের লাভের কারণে এখন হাজার হাজার মানুষকে বিপদে পড়েছে।’

লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান কাউছার বলেন, ‘বারবার বাধা দেয়া হলেও বালুখেকোদের থামানো যায়নি। এখন পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘরের আসবাবপত্র সবর নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠে ধান, বেগুন, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে ভেসে গেছে। অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।’

বৈদ্যার বাজার এলাকার বাসিন্দা ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। তিন সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালাই। একখানি জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। একটা মরিচও বিক্রি করতে পারিনি। সব পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের জিনিসপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘মসজিদের ছাদে আমরা আশ্রয় নিয়েছি। গতকাল রাত থেকে কোন খাওয়া-দাওয়া নেই। কেউ এসে আমাদের দেখেওনি।’

আরও পড়ুন:

এদিকে রাতের পর থেকেই নদীর পানি কমতে শুরু করে। শুক্রবার সকালে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এলে লোকালয় থেকেও ধীরে ধীরে পানি নামতে থাকে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া অনেক পরিবার নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত না করা হলে আবারও পানি বৃদ্ধি পেলে পুরো এলাকা নতুন করে প্লাবিত হতে পারে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য, হুইপ আলহাজ জি কে গউছ। এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, ‘খোয়াই নদীতে কোনো বালুমহালের ইজারা দেয়া হয়নি। এখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এর সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’

হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘বিষয়টি রাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবগত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জেলা প্রশাসনকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘যারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কেউও যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এসএস