কক্সবাজারে বানের জলে ভেসে গেছে হাজারও মানুষের স্বপ্ন। বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। কোথাও ভেঙেছে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট। কোথাও তলিয়ে নষ্ট হয় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও মাছের ঘের। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে। দুর্গত মানুষের অভিযোগ, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট কাটেনি এখনও।
এদিকে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলেও জেলার বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় এখনও ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ করে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। যদিও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে, তবে, এর সুষম ও কার্যকর বণ্টন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ।
ত্রাণ না পেয়ে অভিযোগ করে স্থানীয়রা জানান, তারা ত্রাণ পাওয়ার জন্য এসেছেন। তবে ত্রাণের কিছুই তারা এখনো পাননি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা জানায়, বন্যায় তাদের ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট এবং মাছের ঘের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, তাদের সবকিছু পানিতে ভেসে গেছে। অনেকের খামার নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের দোকার নষ্ট হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, জুলাইয়ের শুরু থেকে টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক এলাকা প্লাবিত হয়। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গেল সোমবার থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ এলাকার পানি নামলেও সর্বত্র রয়েছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয় জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্যসহ অন্যান্য খাতের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘মূলত এ মুহূর্তে অমাবস্যা। অমাবস্যার সময় সমুদ্রের পানি স্ফীত থাকে আপনারা জানেন। যেটাকে তেজ কটাল বলা হয়। যার ফলে পানিটা নামতে সময় লাগতেছে। এই পানিটা নেমে গেলেই আসলে সকল দপ্তর সংস্থার পক্ষ থেকে দ্রুত অ্যাসেসমেন্ট করাটা সুবিধা হবে। ত্রাণের কোথাও সংকট নাই। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর তারপরে বিভিন্ন এনজিও, স্বেচ্ছাসেবক— একটু আগে আমাদের কাছে চেম্বারের প্রতিনিধি আসছিলেন— হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি তারা সব সংগঠনের পক্ষ থেকে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যক্তি পর্যায় পর্যন্ত ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি, ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি এবং ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে, বসতবাড়ি, কৃষি, মৎস্য, সড়ক, সেতু-কালভার্ট, বেড়িবাঁধসহ সাতটি খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা।





