কুমিল্লায় ডেঙ্গুর থাবা; নগর ছাড়িয়ে ছড়াচ্ছে গ্রামেও

কুমিল্লায় এডিস মশা
কুমিল্লায় এডিস মশা | ছবি: এখন টিভি
0

বর্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত মাসে যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯২ জন, চলতি মাসে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়-ডেঙ্গু এখন আর শুধু নগরীর রোগ নয়, ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামেও।

বৃষ্টির জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বাড়ছে এডিস মশার প্রজনন। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। কুমিল্লায় গত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৯২ জন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮৫ অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাসাবাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের পানি জমে থাকা অংশ থেকে শুরু করে ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের পাত্র- যেকোনো ছোট জলাধারই হতে পারে এ মশার প্রজননস্থল।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘যেখানে গ্যারেজে গাড়ি ভাঙা বা ভগ্নাবশেষ থাকে, পরিত্যক্ত টায়ার থাকে, এগুলাতে আমরা ম্যাক্সিমাম সময় এটা পাইতেছি।’

আরও পড়ুন:

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘হঠাৎ একদিন আমার খুব তীব্র মাথাব্যথা ছিল, আমি তখন ভাবছিলাম যে হয়তো কোনো ঘুমের কারণে একটু ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে। পরে কিন্তু দেখলাম না হয়নি, পরে রাতে হচ্ছে কেঁপে কেঁপে জ্বর আসছিল আরকি।’

শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে এডিস মশার উপস্থিতি এবং ডেঙ্গু রোগী। তাই জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, বর্ষার বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এটা হচ্ছে যে এখন ডেঙ্গুর ইমিগ্রেশনটা কিন্তু একদম গ্রামাঞ্চলে চলে গেছে কিন্তু। তো এজন্য আরও সতর্ক হতে হবে। গ্রামাঞ্চলে বিস্তারের জন্য অনেক বেশি পরিমাণ ইয়ে আছে, অপশনগুলো বেশি আছে। আমাদের ডেঙ্গু কর্নার বলেন, আমাদের ডাক্তারদের মধ্যে যারা ইয়ে আছেন, বা আমাদের যারা মিড লেভেলের ডাক্তাররা আছেন, সবার কিন্তু প্রস্তুতি আমাদের আছে। যদি আমাদের আল্লাহ না করুক সংক্রামণ যদি বেশি বাড়ে, সেটাও আমরা মোকাবেলা করতে পারবো।’

আরও পড়ুন:

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস না হলে নতুন করে জন্ম নেবে মশা, বাড়বে সংক্রমণের ঝুঁকি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের কথা বলছে সিটি করপোরেশন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোথাও যেন পানি জমা না থাকে, কোনো টায়ারের মধ্যে বা কোনো টবের মধ্যে দীর্ঘদিন যেন পানি জমা না হয়ে থাকে। একটু আমাদের আঙ্গিনা, ঘরবাড়ি, আমাদের আশপাশ এলাকাগুলো যেন আমরা পরিষ্কার রাখি।’

শহর পেরিয়ে এখন গ্রামেও মিলছে এডিস মশার প্রজননস্থল। তাই শুধু সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে না থেকে, নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসএস