ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণা; চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারকচক্রের দৌরাত্ম্য

ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণার ভুক্তভোগী কয়েকজন
ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণার ভুক্তভোগী কয়েকজন | ছবি: এখন টিভি
0

ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সক্রিয় প্রতারকচক্র। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতারকচক্রের অধিকাংশই নারী। ফ্যামিলি কার্ড করতে আগ্রহী গ্রামাঞ্চলের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষদের টার্গেট করছে এরা। কার্ড দেয়ার কথা বলে নিচ্ছে আগাম টাকা। তবে টাকা দেয়ার মাসের পর মাস পার হলেও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড। টাকা ফেরত চাইলে হুমকি বা হয়রানির মুখে পড়ছেন। পুলিশ বলছে, ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড এখন প্রতারকদের নতুন হাতিয়ার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।

জেলার বালিয়াডাঙা ইউনিয়নের আমতলা পুকুর এলাকার বাসিন্দা নূরজাহান বেগম। সরকারি সহায়তার আশায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রতিবেশী লাইলী বেগমকে দিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। কিন্তু টাকা দেয়ার ছয় মাস পার হলেও মেলেনি ফ্যামিলি কার্ড। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে হুমকির শিকার হয়েছেন তিনি।

নূরজাহান বেগম বলেন, ‘লাইলী পাড়াপড়সি, কহে যে ফ্যামিলি কার্ড দেবো কইরা ১০ হাজার টাকা কালা দাও বুবু। কহে লোকজন সবাকে লিয়ে এই করনু, রিজ বুজ করনু।’

ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার আশ্বাসে বিভিন্ন গ্রামে বেড়েছে প্রতারণা। কার্ড দেয়ার কথা বলে কোথাও টাকা দাবি, আবার কোথাও চলছে নানা ধরনের প্রলোভন।

আরও পড়ুন:

ভুক্তভোগী একজন বলেন, ‘এক মাস হয়, দুই মাস হয় টাকা চাইতাছি, টাকা দেয় না। ধারণা একদিন এলাম যে মেলে লোকজন এল ওইদিন। এসে টাকা চাইলাম, সে মনে করেন যে বলল যে—টাকা তোরাকে দিতে পারব না, তোরা টাকা পাবি না। দেহি আমাদের নামে উল্টা মামলা করে আইলো।’

অন্য একজন বলেন, ‘আজকে না কালকে এরম করে আমাদের অনেক ডেট দিয়েছে। ডেটে ডেটে আমরা আছি, আমাদেরকে টাকাও দেয় না, কার্ডও করে দেয় না।’

প্রতারকরা মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এতে সরকারি এই উদ্যোগের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।

এলাকাবাসীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘তোমরা গরিব মানুষ, ১০ হাজার কইরা টাকা দেন, তাহলে পরে তোমরাকে মাস গেলে আড়াই হাজার কইরা দেবো। ১০ হাজার টাকা তুলতে কতদিন লাগবে? তাই কহে আমারগে কাছে ভোটের আইডি কার্ড নিয়েছে, ছবি নিয়েছে এবং টাকা নিয়েছে। লিয়ে আমরা টাকা দিয়েছি, টাকা চাহিতে আইসে আমাদের ওপর কেস করেছে।’

ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি না হলেও ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করলেন লাইলী বেগম।

আরও পড়ুন:

এরইমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণার অভিযোগে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। এমন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও জেলা প্রশাসক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, ‘ভোলাহাটে যেটা হয়েছে, আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম। সেটা প্রতারণার দায়ে মামলা হয়েছে। আর আপনি যেটা বললেন, সেটা আমি প্রথম শুনলাম। এটা আপনি আমাকে একটু লিখে দেন, আমরা খোঁজখবর নেব এ বিষয়ে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যেগুলো প্রমাণ পাচ্ছি, প্রমাণ পাওয়ার সাপেক্ষে সেগুলো আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

গত ১৭ আগস্ট ভোলাহাটে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা আদায়ের সময় মরিয়ম জেসমিন নামে এক নারী আটক হন। পরে তাকে মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। সরকারি এই উদ্যোগকে ঘিরে প্রতারণা ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের।

এসএস