স্বামীহারানোর স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে মিল্লি আক্তারকে। ২০১৭ সালে চালকলে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ২০ শ্রমিকের একজন তার স্বামী মোহাম্মদ মুন্না। স্বামীর মৃত্যুর পর একাই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন মিল্লি।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার কর্ম করি, আমার সন্তানদেরকে বাঁচাইছি, আমি অনেক কষ্ট করে আমার সন্তানগুলোকে মানুষ করতেছি।’
মিল্লির মতো আরও অনেক পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে সেই দুর্ঘটনায়। উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। সেই দুর্ঘটনার ৯ বছর পরও চালকল শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা তেমন বদলায়নি।
দেশের মোট চাল উৎপাদনের ১৯ শতাংশ হয় দিনাজপুরে। জেলায় মোট ছোট-বড় চালকল রয়েছে প্রায় দু’হাজার। সেখানে কাজ করেন আনুমানিক ৭০ থেকে ৬০ হাজার শ্রমিক। সেই শ্রমিকদের জীবন কাটছে নানামুখী ঝুঁকিতে।
শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তা নাই, কিছু কিছু জায়গায় তো মনে করেন যে কোনো খরচও দেয় না।’
চালকল ও চাতালের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকেরাও। শুধু বারান্দী শ্রমিকের নিরাপত্তা রয়েছে যে মজুরি বৈষম্য। নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও প্রকট। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, চালকলের ৬০ শতাংশ নারীরা পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় কম মজুরি পান।
আরও পড়ুন:
নারী শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সরকার যেন এগুলো খুব দ্রুত দেখে মিলগুলো, জিনিসপাতি, যন্ত্র-মিশন-টেশন যেন ভালো করে, কার যেন গরিব মানুষের ক্ষতি না হয়।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, মজুরি ও নিরাপত্তা নিয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরেন রাইসমিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা।
বাংলাদেশ রাইস মিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী মোহন বলেন, ‘প্রতিটা মিল বারবার বলে মেয়েদেরকে তোমরা শাড়ি পড়ে এই জায়গাটা আসা উচিত না, তোমরা ড্রেস কোড মানবে, ওড়না যদি পরতো ওড়নাটা বেঁধে আসবে। কিন্তু দেখা যায় যে শাড়ি পড়ে আসে, বিশেষ করে নাইট শিফটের মেয়েরা বা ছেলেরা লুঙ্গি পড়ে আসে, মাফলার পরে আসে, তখন মোটরের সাথে প্যাচ খেয়ে যায়, হয়তো অসতর্কতায় সেখানে হাটে।’
শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে থাকা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জনবল না থাকা ও অন্য দপ্তরের ওপর দায় চাপান।
জেলা কলকারখানা পরিদর্শন কর্মকর্তা ফরহাদ ওহাব বলেন, ‘এটা নির্দিষ্ট এলাকায় অলরেডি ঘিরেই থাকতে হবে, মানে নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকতেই হবে, এই জাতীয় বিষয়। এই বিষয়গুলো আমরা দেখি। আমরা একটা ফ্যাক্টরিতে যখন ঢুকি বা একটা রাইটমিলে যখন ঢুকি, ওই স্পেসিফিক দেখি যে এটার মধ্যে বয়লার আছে কি না। যদি থাকে, ঠিক আছে কি না। এভাবে ক্যাটাগরি ওয়াইজ আমরা কখনো করি না।’





