২০২২ এর ২৫ জুন পদ্মাসেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যায়। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ছাড়াও আশপাশের আরও কয়েক জেলার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করছে।
এক দিকে ভারী যানবাহনের চলাচল, অন্য দিকে বর্ষা। একারণে মহাসড়কের বেহাল দশা হয়েছে। রাস্তার পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে এসেছে। বাস-ট্রাক চলছে এঁকে বেঁকে। যানবাহনের ক্ষতির পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনও কখনও যানবাহন উল্টে ক্ষতি হচ্ছে জান-মালের। এ পথে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা জানালেন তাদের দুর্ভোগের কথা।
চালক ও যাত্রীরা জানান, ‘ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গাড়ি চালানোর মতো কোনো পরিবেশ নেই। এক ঘণ্টার রাস্তা চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগে যেতে।
বন্যা-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মহাসড়ক খারাপ হবেই, তবে তা দ্রুত সংস্কার করা উচিত। আর মহাসড়ক নির্মাণকালে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা দরকার বলে মনে করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ যে পরিকল্পনা করেন তার সঙ্গে যদি রাস্তা তৈরির সময় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আদারস ফ্যাসিলিটিজসহ এবং দীর্ঘমেয়াদী একটা পরিকল্পনা করেন, তাহলে মনে হয় এখান থেকে আমাদের উত্তরণ সম্ভব।’
আরও পড়ুন:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় এমনভাবে রাস্তার মধ্যে ভেঙেচুরে গিয়েছে যে এটি খাদে পরিণত হয়ে গিয়েছে। সেসব জায়গায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে গাড়ি উল্টে যেতে পারে, মানুষের চরম দুর্ভোগ হতে পারে। সে কারণে অতি সত্ত্বর এই মেরামতের কাজগুলো করা দরকার।’
ভাঙ্গা থেকে বরিশালের দূরত্ব ৯৭ কিলোমিটার। বর্তমানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষার কারণে এতদিন সংস্কারের কাজ করা যায়নি, তবে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।
বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘২৪ কিলোমিটার সড়কের কার্যাদেশ দেয়া হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট যে অংশগুলো রয়েছে যে আরও প্রায় ২০ কিলোমিটারের মতো সড়ক, এখানেও আমাদের দরপত্র আহ্বান করা হয়ে গেছে। আর বাকি যে অংশটুকু রয়ে গেছে, সে অংশটুকু আমাদের রিপেয়ার কাজ করার জন্য যে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব প্রক্রিয়া করা হয়ে গেছে।’
ঢাকা বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়ক এমনিতেই দেশের অন্যান্য মহাসড়ক গুলোর চেয়ে অপ্রশস্ত। যানবাহন মালিকদের মতে এই মহাসড়কে প্রতিদিন দুই হাজার পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তাই এই মহাসড়ক সংস্কার এবং প্রশস্ততা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




