টানা ছয় মাস ধরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় দেশের জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় বাড়ছে হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ। বিভিন্ন স্থানে ড্রেনে জমে থাকা পানিতে বাড়ছে এডিস মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি। এতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি পৌরবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভা থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার খুবই খারাপ অবস্থা। দুপুর মশারী ছাড়া ঘুমানো যায় না, রাতে তো যাবেই না
সীমিত শয্যা ও চিকিৎসক দিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শয্যা সংকটে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে এমনকি সিঁড়িতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
রোগীদের স্বজনরা জানান, অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে আছে, পাটি পেড়ে, তবে বেড পাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসার রোগীদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ৭৫ থেকে ৮০ জনের মৃত্যুর দাবি করে দ্রুত ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এনে চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর দাবি চেম্বার অব কমার্সের। আর অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানালেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশীদ বলেন, ‘আমাদের যে বাজেট থাকে খুব স্বল্প বাজেটের জন্য কাজগুলো করা যায় না। কাজ শুরু হয়েছে এভাবে, পুরো কাজটা প্ল্যান মাপি হলে আমাদের এই ধরনের জলাবদ্ধতা নিয়ে থাকবে না সমস্যা।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, জননিভিত্তিক সরকার চাপাইনবাবগঞ্জের পণ্য থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে পেছনে চাপার মধ্যে পাঠিয়ে এই চাপাইনবাবগঞ্জের মানুষকে রক্ষা করবে।’
চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত থাকলেও চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে আটটি বিশেষ দল কাজ করছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, ‘একটা ওয়ার্ড করা বা তাদের যে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা, সেই ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিশ্চিত করা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সেই কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, ‘যেসব এলাকায় লার্ভা পাওয়া গেছে সেই বিষয়টা চিহ্নিত করা হয়েছে এরই মধ্যে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা বেশ কয়েকটি মিটিং করেছি। ক্রাশ প্রোগ্রামও নেয়া হয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১৫২টি বসতবাড়ির জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে ৩৬ শতাংশ বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।





