কুষ্টিয়ায় সার সংকটে দিশেহারা কৃষক; কৃষি অফিস বলছে ‘সংকট নেই’

জমিতে সার দিচ্ছেন একজন কৃষক
জমিতে সার দিচ্ছেন একজন কৃষক | ছবি: এখন টিভি
0

কুষ্টিয়ায় সার সংকটে দিশেহারা কৃষক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও ডিলারদের কাছে চাহিদামতো সার না পাওয়ায়, বাইরে থেকে কিনছেন চড়া দামে। সবচেয়ে বেশি সংকট ইউরিয়া ও টিএসপি সারের। ডিলারদের দাবি, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষি অফিস বলছে, সারের কোনো সংকট নেই। সবই সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজি।

গত কয়েক দিনে কুষ্টিয়ার মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসায় সারের অতিরিক্ত দাম নেয়া ও অবৈধ সার মজুদকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন। বর্তমানে পরিবেশকের দোকানে বস্তাপ্রতি ইউরিয়া বিক্রির কথা ১৩৫০ টাকায়, কিন্তু বাইরের দোকানে সেই সার বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকায়। প্রতিটি সারই নির্দিষ্ট মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাইরের দোকানে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে কোনো সারই চাহিদামতো মিলছে না।

কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই কৃষি অফিসাররা কালোবাজারি করছে ডিলারের সঙ্গে। এজন্য আমরা ভোগান্তি পাচ্ছি। তামাম দিন ঘুরে ঘুরে টাকা দিয়েও সার পাচ্ছি নি।’

অন্য একজন বলেন, ‘স্যার বলছে দিচ্ছি, দিতে যাই কামাই নাই। সকাল থেকে ঘুরে ঘুরে আইসে সার দিচ্ছে না। বাইরে থেকে কিনতে গেলে পরে বস্তাপ্রতি ৩০০-৪০০ বেশি। আবার ডবল ২০০০ টাকা কিনতে হচ্ছে ড্যাপ।’

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত পরিবেশকরা ভর্তুকির সার সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ করে বাইরে কালোবাজারে বিক্রির কারণে এমন সংকট। বাধ্য হয়ে খোলাবাজারে সার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যার কারণে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বেশি দামে বিক্রির কথা। ডিলারের কাছে গেলে সার দেয় না। ১০ দিন ১৫ দিন পরে বলে অমুক দিন দিবে। গেলেই লাইন ধরে লোকপ্রতি এক বস্তা দেয়। কেউ পায়, কেউ পায় না।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন বলেন, ‘এইভাবে যদি সারের দাম বেশি দাম যদি বেড়ে যায়, আমরা চাষ কি করে চাষ করব? এই সব কিছুই লসে যাচ্ছে আমার।’

আর ডিলারদের অভিযোগ, কৃষকরা চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করছেন। যার ফলে এ সংকটের সৃষ্টি।

ডিলারদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ফসফেট আপনাকে কৃষি হিসেবে দেয়ার নিয়ম ১৫ কেজি, কৃষকেরা দিচ্ছে ধরেন ৩০ কেজি। মানে কৃষকই ধরেন আপনার চাহিদা দিচ্ছে, আমাদের তো ১৫ কেজি বিঘাপ্রতি। কিন্তু কৃষক দিচ্ছে সেখানে ৩০ কেজি। ওই জায়গায় ধরেন দেখা যাচ্ছে একটু হয়তো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই হচ্ছে, তাছাড়া অন্য কোনো সমস্যা নেই।’

এদিকে কৃষি অফিস বলছে, কুষ্টিয়ায় সারের কোনো সংকট নেই। অসাধু সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘সারের কোনো সংকটই নাই এই মুহূর্তে। আমরা তো সারাক্ষণই আমরা মাঠের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই আগামী যে সেপ্টেম্বর মাসের সারটা, এই সারটা এই মাসের ২৫ তারিখ থেকেই সরকার আবার দেয়ার জন্য ঘোষণা করেছে। যাতে এই সংকটটা যদি কোথাও থেকেও থাকে, সেটার জন্য ওভারকাম করা যায়।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইউরিয়া সার মজুদ আছে ২৩৭৮ মেট্রিক টন, টিএসপি ৫৮৭ মেট্রিক টন, ডিএপি ৪৯৬ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১২১৯ মেট্রিক টন। জেলায় এবার আমন মৌসুমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৮৬ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হচ্ছে।

এসএস