মায়ের ওষুধ আনতে গিয়ে হত্যার শিকার; ৯ মাস পর রহস্য উদঘাটন

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন
পুলিশের সংবাদ সম্মেলন | ছবি: সংগৃহীত
0

মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয় স্কুল ছাত্র ইয়াছিন। ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরা হয়নি তার। পরদিন নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ইয়াছিনের মা আফরিনা নার্গিস। পরে ১৩ আগস্ট সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকের পানিতে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের স্কুল ছাত্র হত্যার ঘটনার নয় মাস পর তিন আসামী গ্রেপ্তারসহ মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন)। নিহত স্কুল ছাত্রের নাম ইয়াছিন আরাফাত (১৭)। সে নারায়ণগঞ্জের উত্তর চাষাড়ার আবুল বাশারের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল আসামী আজীম হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ (রোববার, ১০ মে) দুপুরে পিবিআই নারায়নগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— মো. আজিম হোসাইন (২৭), মো. ফয়সাল (২৭) এবং নুসরাত জাহান মিম (২৪)। পরকীয়ার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানায় পিবিআই।

আরও পড়ুন:

পিবিআই জানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল আসামি আজিম হোসাইন তার স্ত্রী নুসরাত জাহান মিমের সঙ্গে নিহত স্কুল ছাত্র ইয়াছিনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে বলে সন্দেহ করেন। এরই জের ধরে বন্ধু ফয়সালকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে আজিম। ঘটনার দিন তারা কৌশলে ইয়াছিনকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে মরদেহ ফেলে দেয়।

এদিকে নিহত স্কুল ছাত্র ইয়াছিনের মা মামলার বাদী আফরিনা নাসরিন জানান, তার ছেলে আরাফাত নারায়ণগঞ্জের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি।

পরদিন সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকের পানিতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

পিবিআই জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান।

এফএস