পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৩০ মে) রাতে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ইউসুফ মোল্লা তার বড় ভাই আব্দুস ছালামের (৪০) ওপর হামলা চালান।
ঘটনার দিন রাত সোয়া নয়টার দিকে আব্দুস ছালাম দোকান বন্ধ করে বাড়ি পৌঁছামাত্রই তার ছোট ভাই ইউসুফ মোল্লা তাকে ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দিয়ে গুরুতর আঘাত করেন। এরপর ইউসুফ ঘরে প্রবেশ করে তার ভাবি আমেনা বেগম (২৮) ও অবুঝ ভাতিজা আসওয়াদের (দেড় বছর) ওপর উপর্যুপরি হামলা চালান। হামলায় ঘটনাস্থলেই চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমেনা ও তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ছালামকে উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লা মানিকগঞ্জ থেকে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত আমেনার মা মিনা খাতুন বাদী হয়ে ইউসুফ মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে ছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’




