গতকাল (শনিবার, ২৪ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভূইগড় কবরস্থান সড়কে দেলোয়ারের মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ফারজানার শয়নকক্ষের বিছানার ওপর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে স্বামীর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর কটূক্তি ও মন্তব্যের কথাও চিরকুটে লেখা ছিলো বলে জানা গেছে।
নিহত ফারজানা ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসুল্লিবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
ফারজানার বড় ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে পারিবারিক সম্মতিতে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নাজমুল কর্মহীন থাকায় তাদের পরিবারই দম্পতির সংসারের ব্যয় বহন করতো। প্রায় দেড় বছর আগে নাজমুল চাকরিতে যোগ দেন এবং মুন্সিগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
আরিফুলের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জে থাকার সময় থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তার বোনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বর্তমান ঠিকানায় চলে আসেন। ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এসময় শয়নকক্ষ থেকে একটি চিরকুটও জব্দ করা হয়। সেখানে পারিবারিক কলহ ও স্বামীর আচরণের কারণে আত্মহত্যার কথা লেখা ছিলো।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।’
আটক নাজমুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদারবাড়ি এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে।





