তিনি বলেন, ‘জ্বালানি অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-উভয় খাতই সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।’
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে একটি প্রেজেন্টেশন দেয়া হয়েছিল, যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। জ্বালানি আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা যদি জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অর্থ উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করে জানান, এ পরিকল্পনাটি অভ্যন্তরীন উৎসগুলোকে শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন দিক থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে দুটি দিক আছে-বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি। একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের নিজস্ব অফশোর ড্রিলিং উদ্যোগ এবং কয়লা ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে, যার মধ্যে দেশিয় কয়লা সম্পদও অন্তর্ভুক্ত। এসব বিষয়কে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।’
জাতীয় নির্বাচনের বাকি আর মাত্র এক মাস, এমন সময়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন,‘ সম্পূর্ণ সাফল্যের দাবি করা ন্যায়সংগত হবে না।’
তিনি বলেন, ‘সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে বা আমরা শতভাগ অর্জন করেছি—এমন নয়। অবশ্যই কিছু প্রত্যাশা পূরণ করা যায়নি। সীমাবদ্ধতা ছিল।’
অর্থ উপদেষ্টা জানান, পদ্ধতিগত নিয়ম, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা, সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা, দক্ষ জনবলের প্রাপ্যতা এবং প্রতিশ্রুতির ঘাটতিসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় সমাধান না হলে কেবল পরিকল্পনা করেছি বা করতে চেয়েছি বলেই সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’
আরও পড়ুন:
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে প্রকৃতপক্ষে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখছে। উদাহরণস্বরূপ, এসডিজি অর্থায়নের ক্ষেত্রে এমনকি জাতিসংঘও বলছে যে, বাংলাদেশ তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা রাখে এবং বাংলাদেশ যখন সম্মত হয় অন্য দেশগুলোও তা অনুসরণ করে।’
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ধাক্কা আসতে পারে, কিন্তু কোনো দেশের উন্নয়নই সরলরেখায় চলে না। বিশ্বের কোথাও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কখনোই সরলরৈখিক নয়।’
উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি কেবল সরবরাহ এবং চাহিদার বিষয় নয়, কিংবা শুধু নীতিগত সুদের হার বাড়ালেই এর সমাধান হয় না। সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা, বাজারের গতিশীলতা, মানুষের আচরণ ও সহযোগিতা এবং সর্বোপরি সুশাসন এখানে বড় ভূমিকা পালন করে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কেবল অর্থনীতির বিষয় নয়। ‘রাজনৈতিক সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পরিদর্শক বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এটি কোনো দেশেই কার্যকর নয়।’
জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)পাঠানো একটি চিঠি সংক্রান্ত বিশেষ একটি বিষয়ের কারণে চলমান সিলিন্ডার গ্যাস সংকট সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি চিঠিটি দেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক এ কথাই বলছি-এগুলো জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত বিষয়।’ এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা হয়তো গত পরশুদিন নেয়া পদক্ষেপগুলো দেখেছেন। আমাদের প্রচেষ্টা এখন জনগণের দুর্ভোগ মোকাবেলার দিকে মনোনিবেশ করছে।’





