দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম। অথচ সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা সবচেয়ে বেশি। যখন চাল, ডাল বা তেল কেনা হয়, তখন ধনী-দরিদ্র সবাইকেই সমান হারে ভ্যাট দিতে হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরোক্ষ করই দেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাজধানীতে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত এক সভায় উঠে আসে এমন সব উদ্বেগের কথা।
ভ্যাট ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘আসলে আমাদের জিনিসের দাম কেন বাড়ছে? আমরা যদি এন্ড টু এন্ড এই প্রাইসিংগুলো এবং এর টিডিএস ইম্প্যাক্ট অ্যানালাইসিস না করি, তাহলে তো দাম বাড়তেই থাকবে। দিন শেষে কেউ তো আর নিজের পকেটে গিয়ে ইকুইটিটা হারাবে না।’
অর্থনীতিবিদ ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘ট্যারিফের ওপর নির্ভরশীলতা এখনও টোটাল রেভেনিউয়ের ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ, যেটা হয়তো এখন ১০ থেকে ১২ শতাংশের বেশি থাকা উচিত ছিলো না। কারণ আগামী ৫-৬ বছরে এটার মেজরিটি আমাদের ফেইজ-আউট করতে হবে ডব্লিউটিও’র রুলস অনুযায়ী। সুতরাং এই কাঠামোগত সমস্যা, এই জায়গা থেকে আমাদের পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা এবং এটি আহরণের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা—এটা থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
আরও পড়ুন:
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু ইউসূফ মনে করেন, রাজস্ব বাড়াতে হলে কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। বক্তাদের মতে, সরাসরি কর বাড়ানো গেলে পরোক্ষ কর কমানো সম্ভব হবে।
অধ্যাপক আবু ইউসূফ বলেন, ‘যদি আমরা স্ট্যান্ডার্ড একটা জায়গায় যেতে চাই, সেই জায়গায় যেতে হলে কী হবে? আমাদের এনফোর্সমেন্টে যেতে হবে। যে জায়গায় এখন আমাদের ঘাটতি, আমরা কিন্তু সবাই জানি। আপনি যতই রিফর্ম স্ট্র্যাটেজি করেন, সব কিন্তু আমরা জানি, যে কোথায় সমস্যা আছে বা কোথায় সমাধান আছে।’
তবে অর্থনীতির এই সংকটের পেছনে শুধু কর ব্যবস্থাই নয়, বরং সিস্টেমের দুর্নীতিকেও দায়ী করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন তারা।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘আপনি তো আমার সমস্যার কথা শুনছেনই না, আপনি কীভাবে আমার এই সমস্যাগুলো সমাধান করবেন? আমাদের এখানে চিকেন ফ্রাই বিক্রি করলে ১০ শতাংশ এসডি দিয়ে রাখছে, এটার কারণে চাঁদাবাজি করতে সুবিধা হয়।’
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় শুধু কর বাড়ানো সমাধান নয়, বরং সেই কর কার পকেট থেকে নেয়া হচ্ছে এবং তা কীভাবে খরচ হচ্ছে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। পরোক্ষ কর কমিয়ে সরাসরি কর আদায়ের কাঠামো তৈরি করা গেলেই সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





