নিউমুরিং টার্মিনাল ঘিরে নতুন বিতর্ক; কার হাতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণ?

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর | ছবি: সংগৃহীত
0

বিনা টেন্ডার, কখনোবা মেয়াদ বাড়িয়ে দেড় যুগ ধরে চলছে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল। টার্মিনালে দেশি-বিদেশি প্রভাবশালীদের চোখ পড়ায় দুই বছর ধরে চলছে টানা হেঁচড়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সাইফ পাওয়ারটেক ও দুই এমপির যৌথ জোটের লোভনীয় প্রস্তাবে নতুন করে আলোচনায় এই টার্মিনাল। প্রশ্ন উঠেছে নানা পক্ষের স্বার্থের বিরোধে শেষপর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে এনসিটি।

পাঁচটি জেটি নিয়ে গড়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল। বন্দরের মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ হ্যান্ডলিং করে এ টার্মিনালে।

২০০৭ সালে চালুর পর নানা কৌশলে টানা ১৭ বছর এই টার্মিনালটি চালিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক। ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে সাইফ পাওয়ারটেকের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ায়নি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ২০২৫ এর জুলাইয়ে এনসিটির পরিচালনার ভার দেয়া হয় চট্টগ্রাম ড্রাইডককে।

সম্প্রতি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাঝেই দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও বন্দরের অপারেটররা এনসিটি পেতে সরকারকে লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে আছে এমজিএইচ গ্রুপও। এছাড়া নতুন করে আলোচনায় সাইফ পাওয়ারটেকসহ সরকারি দলের দুই এমপির প্রতিষ্ঠানের যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই জায়গা থেকে সবার সুযোগ হলো। কারণ এখানে সুবিধা বেশি, এখানে এখন ইনকাম করার পথ। হ্যাঁ, হ্যাঁ, যদি সেটা না হতো এই কয়দিন কিভাবে চলছে? আইদার আমাদের চট্টগ্রাম ড্রাই ডক বলেন, সাইফ পাওয়ার বলেন যে কেউ বলেন, আমরা একজনের পর একজনকে দিচ্ছি।’

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও লাভজনক টার্মিনাল হওয়ায় এনসিটির দিকে নজর সবার। গত অক্টোবরে বন্দরের ট্যারিফ বাড়ায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশি-বিদেশি অপারেটররা।

আরও পড়ুন:

এনসিটিতে এখন নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। বিনা টেন্ডারে বিদেশি অপারেটরকে দীর্ঘ মেয়াদে এনসিটি ইজারা দেয়া যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন বন্দর পরিচালনা পর্যন্ত সাবেক এ সদস্য।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সাবেক বোর্ড মেম্বার জাফর আলম বলেন, ‘ডিপিএমে অথবা জিটুজি—এ পদ্ধতিগুলো বাদ দিয়ে ওপেন কম্পিটিশনে হওয়া উচিত এবং ওপেন কম্পিটিশন যখনই হবে, তাহলে কস্ট ইফেক্টিভ হবে, সময় সাশ্রয়ী হবে এবং খুবই দৃশ্যমান হবে যে কী হচ্ছে না হচ্ছে।’

এনসিটি ইজারার বিরুদ্ধে সরব বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রধান বন্দর এটি। গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর ইজারা দিলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, চাকরি হারাবে শ্রমিক; হুমকির মুখে পড়বে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এনসিটিতে অপারেটর নিয়োগের দাবি তাদের।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘এ চুক্তিটা আমাদের কারো জন্য সুফল বয়ে আনবে না। আমরা সরকারের কাছে প্রত্যাশা করি, সরকার এই অশুভ চুক্তি থেকে সরে আসবে। অন্যথায় বন্দর শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে এই চুক্তির প্রক্রিয়াটা প্রতিরোধ করবে।’

গত ৪ জুন এনসিটি ইজারা নিয়ে একই দিনে নৌ-মন্ত্রণালয়ের দুই চিঠি নতুন বিতর্ক সৃষ্টির পাশাপাশি এই টার্মিনাল নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । এ অবস্থায় কালক্ষেপণ না করে এনসিটির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান বন্দর ব্যবহারকারীদের

এফএস