এ লক্ষ্যে আজ (বুধবার, ১১ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করেছে। নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট কমানোর পাশাপাশি অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এর আওতায় পড়তে পারে—এমন খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে।
চলতি অর্থবছরের শেষ দিন নির্ধারণ করে দেওয়া এ সময়সীমা ব্যাংক খাতের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরুত্বের প্রতিফলন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অনাদায়ী ঋণ থাকায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই ১ শতাংশ আদায়ের লক্ষ্যকে জাতীয় পর্যায়ের ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এ নির্দেশনা ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেও নতুন নীতিমালায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এডিআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মধ্যস্থতা সেবাদানকারী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠিত প্যানেল থেকে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচন করতে হবে।
এসব প্যানেলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন।
সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা জ্ঞান, প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতা।
আরও পড়ুন:
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ ছাড়া এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।
আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।





