বাংলাদেশি সবজি ও ফলমূলের বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্য, যা মোট সবজি রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ। সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বছরে কয়েক কোটি ডলারের সবজি রপ্তানি হয়। ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে অধিকাংশ এয়ারলাইন্স তাদের মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত করায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় এক দিনেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে ৮০ টন সবজি রপ্তানি সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।
সবজি ও ফলমূল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো মাহবুব রানা বলেন, ‘যে মালগুলো উঠবে এবং যাবে, সেই মালগুলো কাল রপ্তানি হয়নি। হঠাৎ ফ্লাইটগুলো স্থগিত হয়েছে। সে কারণে আমরা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত। বলতে গেলে আমাদের পুরো আড়াই লাখ ডলার জলে গেল আরকি।’
মধ্যপ্রোচ্যের যুদ্ধে শংকিত পোশাক রপ্তানিকারকরা। আকাশ পথের পাশাপাশি জলপথে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধের ফলে শুধু জ্বালানি সরবরাহ নয়, পণ্য রপ্তানি বিঘ্নিত হবার শঙ্কা তাদের।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সার্বিকভাবে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে, এতে রপ্তানি খাত প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।
আরও পড়ুন:
বিজিএমইএর সাবেক প্রথস সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বড় ধরনের একটা সেটব্যাক হতে পারে জ্বালানির কারণে। এটি কিন্তু আমাদের সরাসরি অ্যাফেক্ট করবে। আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় অ্যাফেক্ট করলে কিন্তু আমরা বেকায়দায় পড়ে যাবো। আবার আমাদের কিছু ক্ষেত্রে এক্সপোর্টগুলোর জন্যও এটা শর্ট রুট। সেখানেও ডিস্ট্র্যাকশন হবে।’
শিপিং এজেন্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে গালফ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যগামী কনটেইনার জট তৈরি হবে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, বাড়বে পণ্য পরিবহন খরচ।
এম এস সি শিপিংয়ের হেড অফ অপারেশ এন্ড লজিস্টিক আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যদি পুরো রুটটিই অ্যাফেক্টেড হয়, তাহলে আমাদের এই সাপ্লাই চেইনে একটা বড় ধরনের অ্যাফেক্ট তো হবেই। সেইসঙ্গে আমাদের কনটেইনারগুলোর ভালো একটা ভলিউম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাচ্ছে। সেই কনটেইনারগুলোর মুভমেন্টও কিন্তু অ্যাফেক্টেড হবে।’
ইপিবির তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ সবজি, তৈরি পোশাকসহ প্রায় আট কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এছাড়া ইরানে রপ্তানি করেছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের পণ্য।





