জ্যৈষ্ঠের দাবদাহ যেন ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। মধ্য মে থেকে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ এখন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যেন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। ফলে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।
গরমে দুর্বিষহ জীবন, দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠছে শ্রমজীবীরা। গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে, স্বস্তি পেতে পান করছে ঠান্ডা শরবত বা ডাবের পানি। বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। পথচারীরা জানান, যে পরিমাণ রোদের প্রখরতা এবং বিকাল অব্দি থাকে রোদের প্রখরতা।
একজন রিকশাচালক বলেন, ‘বের হয়েছি পেটের টানে আর কি। না চালাইলে তো উপায় নাই, তাহলে খাবো কি?’
আরও পড়ুন
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পহেলা জুন থেকে বরিশাল অঞ্চল জুড়ে এ মৃদু তাপ প্রবাহ শুরু হয়েছে। যা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ওঠানামা করছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের অফিস ইনচার্জ মো. আবু জাফর বলেন, ‘আমাদের রেকর্ড অনুযায়ী সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো বরিশালে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশ আবহাওয়া দফতর থেকে প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ তাপপ্রবাহ আরও দুই-একদিন অব্যাহত থাকবে। এরপর আস্তে আস্তে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তীব্র তাপপ্রবাহে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সামান্য অসতর্কতাও ডেকে আনতে পারে পানিশূন্যতা, কিংবা প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোক। তাই তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা ও হিটস্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ চিকিৎসকদের।
একটানা তাপপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে দক্ষিণের জনপদ বরিশালের মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এখনই কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো এবং ব্যাপক বনায়ন করা না হলে এ প্রভাব আগামীতে তীব্র আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





