কাল থেকে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু

আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী শিশু

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামীকাল থেকে শুরু হবে জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আগামীকাল (রোববার, ৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে এ টিকাদান কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আজ (শনিবার, ৪ এপ্রিল) জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষ করে ছোট শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলছে। সরকার এ পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (এনআইটিএজি) একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এ কার্যক্রমটি একটি সমন্বিত প্রতিরোধ পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

এতে জানানো হয়, এ কার্যক্রমের আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারা পূর্বে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক।

এ কার্যক্রমটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর রোগের পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

আগামী ২১ মে এর মধ্যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বেই, পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নবাবগঞ্জে আগামীকাল এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কক্সবাজারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে উদ্বোধন করবেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে উদ্বোধন করবেন। স্বাস্থ্য সচিব গাজীপুরে উদ্বোধন করবেন।

দিকনির্দেশনায় জানানো হয়, এ সময় ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়। তবে যেসব শিশুর জ্বর আছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদেরকে এ সময় টিকা দেয়া হবে না। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকা গ্রহণ করবে।

হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।

দেশবাসীকে আতঙ্ক না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এতে জানানো হয়, আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে পারলে এ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হওয়া যাবে। পাশাপাশি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম সম্ভব বলেও জানানো হয়।

এফএস