মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৩৮৯ জন রোগীর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ১৮ জন রোগী পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত জেলার শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন তিনজন। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলের একজনের হাম পজিটিভ ও বাকি দু’জনের এখনো রিপোর্ট আসেনি। তাদের দু’জনের বয়স ৯ মাস ও একজনের বয়স ১ বছর ৫ মাস।
২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস জানান, গত এক সপ্তাহে সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪ জন, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৭ জন।
হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৯৫ জন৷ বাকিরা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আর পড়ুন:
সদর হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে সাতজন বার্ধক্যজনিত কারণে, একজন নবজাতক ও মজিদ মিয়া (৫০) নামে একজন ডায়রিয়ায় মারা গেছেন। তবে তার ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগও ছিল বলে জানান প্রণয় কান্তি দাস।
গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৫ জন ও বহির্বিভাগে পাঁচ হাজার ৬৬১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকায় মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান তিনটি শিশু মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৯২৮ জন। এর মধ্য থেকে দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৭ জনকে। প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৬৬৪ জন, দেয়া হচ্ছে ৭ হাজার ৫৮৮ জনকে।’
এদিকে ল্যাব টেস্টে নমুনা পাঠানো হলেও সেটার রিপোর্ট আসতে সর্বনিম্ন ৭ দিন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিন লাগছে, এতে করে চিকিৎসা সেবা দিতে দেরি হচ্ছে বলেও জানান সিভিল সার্জন। তবে টিকাদান কর্মসূচীর মাধ্যমে এর প্রকোপ কমে আসবে বলেও জানান তিনি।





