শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে লাগাম টানছে বিশ্ব

ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, ফেসবুক, টুইচ এবং রেডিট অ্যাপ্লিকেশন
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, ফেসবুক, টুইচ এবং রেডিট অ্যাপ্লিকেশন | ছবি: রয়টার্স
0

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপ—একের পর এক দেশ শিশুদের জন্য এসব প্লাটফর্ম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব দেশের তালিকা উঠে এসেছে।

গত ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন এই আইনের ফলে টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্লাটফর্মগুলো কিশোর-কিশোরীদের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই পথ অনুসরণ করে ব্রিটেনও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্ক ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য একই ধরনের একটি বিল অনুমোদন করেছে। গ্রিস, স্লোভেনিয়া এবং পোল্যান্ডও ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে। নরওয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৩ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ইতালি ও জার্মানিতে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে এসব প্লাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অনুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন ‘মাইনর মোড’ চালুর মাধ্যমে শিশুদের স্ক্রিন টাইম বা অনলাইনে থাকার সময় বেঁধে দিয়েছে। মালয়েশিয়া ২০২৬ সাল থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে। ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এই প্লাটফর্মগুলোকে ‘শিকারি’ (প্রেডেটরি) হিসেবে বর্ণনা করে বয়সসীমা নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রেও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘কিডস অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট’ নিয়ে কাজ চলছে। ইউরোপীয় কমিশনও টিকটক, মেটা ও এক্স-এর মতো প্লাটফর্মগুলোর ক্ষতিকর আসক্তি থেকে শিশুদের বাঁচাতে নতুন আইনের পরিকল্পনা করছে।

বর্তমানে বেশির ভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর থাকলেও শিশু অধিকার রক্ষা কর্মীরা একে অপর্যাপ্ত মনে করছেন। তাদের মতে, সরকারি পর্যায়ে কঠোর আইন ও কার্যকর বয়স যাচাই পদ্ধতি ছাড়া শিশুদের এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা কঠিন।

এএম