মেটার সাপোর্ট পেজে প্রকাশিত একটি আপডেটে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের মতো ইনস্টাগ্রামে এ সুরক্ষা ব্যবস্থা সবার জন্য ডিফল্ট বা বাধ্যতামূলক ছিল না। নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা কেবল অপ্ট-ইন পদ্ধতির মাধ্যমে এটি ব্যবহারের সুযোগ পেতেন।
মেটার এক মুখপাত্র জানান, ব্যবহারকারীদের অনাগ্রহের কারণেই এ ফিচারটি বন্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ ইনস্টাগ্রাম ডিএম-এ এনক্রিপশন ব্যবহার করছিলেন। তাই আগামী মাসগুলোতে আমরা এ অপশনটি সরিয়ে নিচ্ছি। যারা এনক্রিপশন সুবিধা পেতে চান, তারা সহজেই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।’
তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, মেটা তাদের ‘মেসেঞ্জার’ অ্যাপের এনক্রিপশন নিয়ে কোনো নতুন মন্তব্য করেনি। ২০২৩ সাল থেকে মেসেঞ্জারে ডিফল্ট এনক্রিপশন চালুর কাজ শুরু হলেও বর্তমানে তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
২০১৯ সালে মার্ক জাকারবার্গ মেটার অ্যাপগুলোকে ‘প্রাইভেসি-ফোকাসড’ বা গোপনীয়তা-কেন্দ্রিক করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন কার্যকর করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।’ কিন্তু সেই অবস্থান থেকে মেটার এই সরে আসা প্রযুক্তি বিশ্বে বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মেটার এনক্রিপশন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলো সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, এনক্রিপশন ব্যবস্থার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি নিউ মেক্সিকোতে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি মামলার বিচারেও বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। আদালতের নথিতে দেখা যায়, মেটার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গবেষকরা নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন।
সাক্ষ্যপ্রদানকালে জাকারবার্গ স্বীকার করেন যে, নিরাপত্তা ইস্যুর কারণেই মেসেঞ্জারে এনক্রিপশন আনতে এত দেরি হয়েছে। তবে তিনি এটিও যোগ করেন যে, অধিকাংশ মানুষ এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা শক্তিশালী এনক্রিপশনকে ইতিবাচক মনে করেন।





