ইরান যুদ্ধে  ট্রাম্পের পরিকল্পনায় লক্ষ্যহীনতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ সমালোচকদের

আবিদ মঈন
গ্যালভেস্টন উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জব্দকৃত তেলবাহী জাহাজ স্কিপার
গ্যালভেস্টন উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জব্দকৃত তেলবাহী জাহাজ স্কিপার | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনায় স্পষ্ট লক্ষ্য ও সমন্বয়ের অভাব শুরু থেকেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত, বেসামরিক হতাহত, বিপুল ব্যয় ও নীতিগত অস্পষ্টতা এ সংঘাতকে এমন এক জটিলতায় ফেলেছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিন থাকতে পারে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিমান যখন ইরানে যুদ্ধের প্রথম হামলা চালাতে নামছিল, তখন তেহরানে শাসন পরিবর্তনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তড়িঘড়ি পরিকল্পনা ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হস্তক্ষেপের বাস্তবতার মুখে পড়তে যাচ্ছিল।

সেই বাস্তবতা দ্রুতই সামনে আসে। পেন্টাগন হামলায় পুরোনো লক্ষ্যতথ্য ব্যবহার করায় একটি মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র একটি মেয়েদের স্কুলে আঘাত হানে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ১৭৫ জন নিহত হন। ইরানের প্রাথমিক ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টা হামলার বেশির ভাগই প্রতিহত করা হলেও এতে শত শত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র খরচ হয়। 

তবে একটি ড্রোন কুয়েতে একটি অস্থায়ী কমান্ড সেন্টারে আঘাত হেনে ছয় মার্কিন সেনাকে হত্যা করে এবং আরও কয়েক ডজনকে আহত করে।

আরও পড়ুন:

এদিকে অঞ্চলে আটকা পড়েন কয়েক হাজার মার্কিন নাগরিক। তাদের সরিয়ে নিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তড়িঘড়ি করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। আলী খামেনিকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো মার্কিন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের বহু সম্ভাব্য উত্তরসূরিও নিহত হন। পরে প্রথম ভাষণে ট্রাম্প শুধু ইরানিদের বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ করলে তোমরা নিজেদের সরকার দখল করে নাও’—কিন্তু কীভাবে তা হবে, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।

পেন্টাগন কংগ্রেস সদস্যদের জানায়, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে এ হিসাবের মধ্যে সেনা সমাবেশের ব্যয় বা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার খরচ ধরা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর চূড়ান্ত প্রভাব কী হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতের প্রশাসনগুলো বহু দশক ধরে ইরানে আগ্রাসনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে মহড়া চালিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকায় তার চারপাশের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত উপদেষ্টা বলয়, সরকারের আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় প্রক্রিয়ার ভেঙে পড়া এবং তার অনিয়মিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এ অভিযানে সাম্প্রতিক স্মৃতির অন্য যেকোনো মার্কিন সামরিক অভিযানের চেয়ে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।


এএম