ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দুই সপ্তাহ পার হলেও থামার কোনো লক্ষণ নেই। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় এরই মধ্যে আলী খামেনিসহ ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। বিপরীতে ইসরাইলি ভূখণ্ড ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরানও। ইরান বলছে তারা সামরিক আগ্রাসনের শিকার। আত্মরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান।
এদিকে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আশা করছেন এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এবং দামও কমে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, চলমান এই সংঘাত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। হয়তো এর আগেও শেষ হতে পারে। এরপর জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং তেলের দামও কমে যাবে। তবে স্বল্পমেয়াদে যে জ্বালানির বাজারে ব্যাঘাত ঘটবে সে বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন ছিল যুক্তরাষ্ট্র। যার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। স্কাই নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ জ্বালানিমন্ত্রীর দাবি, হরমুজ চালুর সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে সংঘাত কমানো। রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ব্রিটেন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাজ্যের জ্বালানিমন্ত্রী ডেভিড মিলব্যান্ড বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সবার স্বার্থের জন্য জরুরি । চলমান সংঘাত কমানোই প্রণালিটি পুনরায় চালু করার সর্বোত্তম উপায় ও পথ। আর চূড়ান্ত উপায় হল এই সংঘাতের অবসান । এ বিষয়ে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
আরও পড়ুন:
উপসাগরীয় দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের এই রুট সুরক্ষিত হবে। এতে পশ্চিমা সামরিক শক্তির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই বলে জানান, আইআরজিসির সাবেক এই কমান্ডার।
আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম বলেন, ‘হরমুজের সুরক্ষা অবশ্যই সম্ভব। এরই মধ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোকে মডেলটি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। এমনকি যৌথ মহড়াও হয়েছে। পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখানে থেকে চলে গেলে সহজেই আঞ্চলিক দেশগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাররে।’
এদিকে, তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সব জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুশিয়ারি জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলো ছাইয়ে পরিণত করা হবে।
যুদ্ধে বিপর্যস্ত জ্বালানি বাজার। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়ার তেলের ওপর ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যা রাশিয়াকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার পশ্চিমা প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনসহ ইউরোপে অনেক দেশ এর বিরোধিতা করছে। এদিকে, ইউক্রেনও ধীরে ধীরে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি।





