গেল, ৩১ মার্চ ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান শেষ করবে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষ করার জন্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনা বা কোনো সমঝোতার প্রয়োজন হবে না ওয়াশিংটনের। এখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত করেছিলেন, ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যেই নিজস্ব লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে মার্কিন ও ইসরাইলি সেনারা।
কিন্তু এর সপ্তাহ যেতে না যেতেই ফের বয়ান বদলে ফেললেন ট্রাম্প। হরমুজ সচল করতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ার করলেন, নমনীয় না হলে নরক নেমে আসবে তেহরানে। এই ঘটনা প্রবাহে যোগ হল বিধ্বস্ত এফ-১৫ বিমানের ক্রু'র নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ ঘণ্টার অভিযান। রেসকিউ মিশন সফল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রীতিমতো কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে অশালীন ভাষায় ইরানকে আক্রমণ করে পোস্ট দিলেন খ্যাপাটে ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, গেল এক সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও বক্তব্য ইঙ্গিত করে এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হারিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই, মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসে দেয়া ইন্টারভিউতে ট্রাম্প মন্তব্য করলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই অস্ত্রবিরতির চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে। জানা গেল, ৪৫ দিনের অস্ত্রবিরতির চুক্তি বাস্তবায়নে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলো।
আরও পড়ুন:
এর আগেও পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর যুদ্ধবিরতির আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন ইরানের ভাষ্য ছিল, তাদেরকে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করে নিজেরা নিজেরাই সমঝোতার আলোচনা শুরু করেছে মধ্যস্থতাকারীরা। এখন প্রশ্ন ওঠে অ্যাক্সিওসের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তা কতোটা বিশ্বাসযোগ্য।
সূত্র বলছে, মস্কোর সঙ্গে একধরণের আলোচনা শুরু করেছে তেহরান। যদিও বিশ্লেষকদের দাবি, সংঘাতের ৩৮তম দিনে যুদ্ধের যে ভয়ংকর অবস্থা তাতে রণক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার অবস্থায় নেই কোনো পক্ষই। আত্মমর্যাদার প্রশ্নে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে।
প্রথমত, গেল জুন এবং এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ডেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে ওয়াশিংটন। দ্বিতীয়ত, গেল এক সপ্তাহে ট্রাম্প যেভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন এরমধ্যে সমঝোতার কোনো পরিবেশ আছে বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দম্ভের সামনে কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না ইরান। অসম যুদ্ধে যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র- তাতে জোর করে বা চাপ দিয়ে দমানো যাবে না তেহরানকে।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে কেনই বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে এমন আত্মবিশ্বাসী মার্কিন প্রেসিডেন্ট? প্রথমত, হরমুজ সচল করতে না পারায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মিত্র দেশগুলো। সাধারণ জনগণ থেকে ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতা- অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান আক্রমণের যৌক্তিকতা নিয়ে। প্রায় ৬ সপ্তাহে গড়ানো এই সংঘাত থেকে এখনও কী অর্জন করলো যুক্তরাষ্ট্র- তাও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব কারণেই যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন এই সংঘাতের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে।





