একদা রপ্তানির শীর্ষে, আজ আমদানিনির্ভর: কিউবার চিনি শিল্পের উত্থান-পতন

কিউবার একটি সুগার মিল
কিউবার একটি সুগার মিল | ছবি: সংগৃহীত
0

একসময় বিশ্বের বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি ছিলো কিউবা। ১৯৮৯ সালে বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তার করা এ শিল্পই ছিলো দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কিন্তু আজ সেই কিউবাকেই নিজস্ব চাহিদা মেটাতে আমদানি করতে হচ্ছে চিনি। তবে বিদেশি বিনিয়োগ পেলে আবারো দেশটির চিনিশিল্প ঘুরো দাড়াতে পারে বলে আশা অর্থনীতিবিদদের।

কয়েক দশক আগেও বিশাল আখের খামার কিউবা চিনি, রাম তৈরির জন্য ছিলো বিখ্যাত। শুধু তাই নয় অ্যালকোহল, পশুখাদ্যের জন্য মোলাসেস, আর ব্যাগাস থেকে তৈরি হতো কাগজ ও প্যাকেজিং সামগ্রী। এমনকি আখের বর্জ্য পুড়িয়ে উৎপাদন করা হতো বিদ্যুৎও।

তবে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতেই ধস নামে এ শিল্পে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমতে থাকে, আর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। কিউবার অর্থনীতিবিদ ওমর এভারলেনি জানান, কিন্তু উচ্চ ব্যয় ও কম দামের কারণে ২০০২ সালের মধ্যে শিল্পটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

ওমর এভারলেনি অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এ দেশ এক সময় ষাট লাখ টনেরও বেশি চিনি রপ্তানি করত। কিন্তু ইস্পাত, জ্বালানি ও অন্যান্য অনেক কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, ফলে এর উৎপাদন খরচ অত্যন্ত বেশি। ২০০২ সাল নাগাদ এ শিল্পটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। তাই বিপুল সংখ্যক চিনিকল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০০২ সালে ১৫০টির বেশি চিনিকলের মধ্যে ৭১টি বন্ধ করে দেয়া হয়। এর ফলে দেশটিতে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ে। হাজারো শ্রমিককে অন্য খাতে স্থানান্তর করা হয়, ফাঁকা পড়ে থাকে বিশাল জমি ও যন্ত্রপাতি, আর মিলকেন্দ্রিক জনজীবন প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:

বর্তমানে কিউবার বার্ষিক চিনি চাহিদা প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০২৫ সালে উৎপাদন নেমে এসেছে ২ লাখ টনেরও নিচে। ফলে দেশটিকে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চিলি থেকে চিনি আমদানি করতে হচ্ছে।

তবে আশার আলোও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কিউবার কাছে এখনো রয়েছে দক্ষ জনবল, অভিজ্ঞ প্রকৌশলী এবং ঐতিহ্য—যা এই শিল্পকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যে দেশে চিনি শিল্পে ব্যাপক অভিজ্ঞতা, বহু যন্ত্র প্রকৌশলী এবং এ ক্ষেত্রের অন্যান্য পেশাজীবী রয়েছেন, সেখানে এই জাতীয় শিল্পকে পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই আছে। তবে শিল্পটিকে পুনরুদ্ধার করতে এর জন্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।’

এ লক্ষ্যেই সম্প্রতি কিউবার ন্যাশনাল ইনোভেশন কাউন্সিল একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। এর লক্ষ্য শুধু চিনি উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং আখ থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।

এফএস