সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ-কে বলেন, ‘ইরানের হামলাগুলো তেল ও গ্যাস উৎপাদন, পরিবহন ও পরিশোধন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং শিল্পনগরী ইয়ানবুর পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা জানান, হামলায় একজন সৌদি নাগরিক নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর এ যুদ্ধের সূচনা হয়।
এরপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। দেশটি এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জন্য মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করে।
সৌদি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, পূর্ব-পশ্চিমের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে হামলা হয়েছে। এতে দৈনিক ৭ লাখ ব্যারেল তেল পাম্প করার সক্ষমতা কমে গেছে।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের পেট্রোলাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইনে পরিণত হয়েছে। ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পূর্বে উপসাগর ও পশ্চিমে লোহিত সাগর—বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি জলপথকে সংযুক্ত করেছে।
পেট্রোলাইন দৈনিক সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করতে সক্ষম। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগে ওই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হতো।
সৌদি কর্মকর্তা বলেন, ‘মানিফা ও খুরাইস উৎপাদন কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেল কমেছে।’
বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব প্রতিদিন ১ কোটির কিছু বেশি ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। জুবাইল, রাস তানুরা, ইয়ানবু ও রিয়াদের পরিশোধনাগারেও হামলা হয়েছে, যার ফলে পরিশোধিত পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানিতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে—এছাড়া গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।





