আজ (শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজ্যটির পানিহাটির অমরাবতী মাঠে একটি নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মানুষদের অভিনন্দনও জানান মোদি।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল)। বাংলায় ভোট পড়েছে ৯১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন, গতকাল প্রথম দফার নির্বাচনে বিজেপির বিজয় ঘণ্টা বেজে গেছে। এ দিন পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনে ভোট সম্পন্ন হয়। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাতে পরিবর্তনের যে ঢেউ দেখা গিয়েছিলো গতকাল প্রথম দফার নির্বাচন তাতে সীলমোহর লাগিয়ে দিয়েছে। গতকাল বিজেপির পক্ষে যে সমর্থন দেখা গেছে, তাতে বিজেপির বিজয় ঘণ্টা বেজে গেছে। যে বাংলায় গণতন্ত্রের মন্দিরেকে তৃণমূল কংগ্রেস পিষে দিয়েছে, তৃণমূলের একনায়কতন্ত্র গণতন্ত্রের মন্দিরকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দিয়েছে, সেই বাংলার মানুষ প্রথম দফার নির্বাচনে গণতন্ত্রের মন্দিরকে পুনর্নির্মাণ করেছে। এবার দ্বিতীয় দফায়, আপনাদের সবাইকে গণতন্ত্রের জয়ের পতাকা ওড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘৪ মে ফল সামনে আসার পর তৃণমূলের গুন্ডারা বাংলাতে লুকোনোর জায়গা পাওয়া পাবে না, ওদের বাঁচানোর কেউ থাকবে না। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার নির্বাচনে তৃণমূলের মহাঅরাজকতার শেষের শুরু হয়ে গেছে। আজ গোটা বাংলায় একটা স্লোগান শোনা যাচ্ছে, সেটা হল— “পাল্টানো দরকার”।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের একটা ভোটেই নতুন বিপ্লবের সূচনা হবে। বাংলার মানুষের কাছে, আপনারা একটা ভোটের মাধ্যমে আশীর্বাদ দিন, আমরা সবাই মিলে তৃণমূলের ভয়ের পরিবেশ, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, নারীদের ওপর অত্যাচার, অনুপ্রবেশ—সমস্ত কষ্ট থেকে মুক্তি দেবো। এ স্বাধীনতা খুবই প্রয়োজন।’
এসময় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে সমস্ত বিজেপি প্রার্থীদের বিধানসভায় পাঠাতে হবে। তাই আপনাদের আশীর্বাদ নিতে আমি এসেছি। বিজেপির সরকার তৈরি করতে হবে, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বানাতে হবে, যাতে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে মিলে কাজ করতে পারে। দিনে ও রাতে একসঙ্গে উন্নয়ন করতে পারে।’
যাদবপুরে অন্য একটি সভায় যোগ দেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি বলেন, ‘একটা সময় যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্মানের সঙ্গে নেয়া হতো, কিন্তু আজ ক্যাম্পাসের ভেতরে হুমকি দেয়া হচ্ছে, দেয়ালে দেশবিরোধী কথা লেখা হচ্ছে। এখানে পড়াশোনার বদলে শিক্ষার্থীরা সড়কে গিয়ে অবরোধ করছে। মানুষ এখানে অরাজকতা চায় না, শিক্ষার পরিবেশ চায়। যেখানে রাজ্য সরকার একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে পারে না, সেখানে গোটা রাজ্যের মানুষকে কীভাবে বাঁচাবে?’
আরও পড়ুন:
এর আগে, সকালে কলকাতায় গঙ্গাবক্ষে নৌকা ভ্রমণে বের হন মোদি। কলকাতার বাবুঘাট থেকে নৌকায় করে গঙ্গায় ভ্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায়তে সেই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন তিনি। তিনি লেখেন, ‘গঙ্গা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। বলা যায়, গঙ্গা বাংলার আত্মার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।’
নৌকায় ভ্রমণকালে নৌকার মাঝির সঙ্গে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি তিনি মাঝি ও প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি বিদ্যাসাগর সেতু ও হাওড়া ব্রিজের কিছু ছবিও শেয়ার করেন এবং বাংলার মানুষের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে মোদির বক্তব্যের পরই এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘ভোট কেটেও কিছু হবে না। কালকে দেখেছো গ্রাম বাংলায়? ৯৩ শতাংশ ভোট! মোদি বাবু, তোমার বিরুদ্ধেই এ ভোট। তার কারণ, তোমরা এসআইআরের নামে মানুষের উপর যে অত্যাচার করেছ, প্রায় ৩০০ জন মারা গেছে। কালকেও ভোটের লাইনে চার জন মারা গেছে, মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না।’
মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা মহিলাদের ওপর অত্যাচার করে, বিজেপি তাদেরকে টিকিট দেয়। আবার বলে, বাংলা নাকি জ্বলছে! আমি বলবো, বাংলা জ্বলছে না, আপনি নিজে জ্বলছেন। ৪ মে তারিখে ভোটের ফল বের হবে। তখন আপনারা দেখবেন আর লুচির মত ফুলবেন। আমাদের যেসব মাইনাস জায়গা ছিলো, গতকাল আমরা সেখানে এগিয়ে গেছি। বিজেপি অনেক বেশি আসনে হারবে। গতবারে যে কটা আসন পেয়েছিলো, এবার তার অর্ধেকও পাবে না। সেজন্য অমিত শাহকে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়েছে।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একজন প্রধানমন্ত্রী আজকে যাদবপুরের শিক্ষার্থীদের যে ভাষায় আক্রমণ করেছে, আমি মনে করি ছাত্র সমাজের এর প্রতিবাদ করা উচিত। কারণ ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের গর্ব। মোদি বলেছেন, ওখানে নাকি নৈরাজ্য হয়েছে।’
মোদির নৌকা ভ্রমণ নিয়ে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘আজকে উনি আবার নৌকা বিহার করেছেন। বাংলার গঙ্গা পরিস্কার, তাই আপনি সকাল বেলায় নৌকা বিহার করে হাওয়া খেয়েছিলেন। এটা ভোটের রাজনীতি, ফটোশুটিং। আপনি একবার যমুনাতে গিয়ে ডুব দিয়ে আসেন।’
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের হার দেখে খুশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এ দিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলা চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশের একজন নাগরিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের হার দেখে আমি খুব খুশি। যখন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তখন তারা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেন।’
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল বাংলায় দ্বিতীয় ও শেষ দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভোটগণনা ৪ মে।





