এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘সেনাবাহিনী মনে করছে না যে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সাময়িক বিরতি ও যুদ্ধবিরতি চললেও প্রথম দিন থেকেই তারা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করে চলেছেন।’
তিনি আরও জানান, ইরানি সেনাবাহিনী যুদ্ধের নতুন সরঞ্জাম তৈরি ও পুরোনো অস্ত্রের আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছে। দেশের জন্য পরিস্থিতি এখনো কার্যত ‘যুদ্ধকালীন’ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি এবং বাহিনীর সরঞ্জাম সজ্জার কাজ এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ করা হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘শত্রুরা যদি আবারও আগ্রাসন চালায়, তবে তারা ইরানের নতুন সরঞ্জাম, নতুন কৌশল এবং নতুন রণক্ষেত্রের মুখোমুখি হবে।’
আরও পড়ুন:
আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো নতুন হামলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকির ক্ষেত্রে ইরান আগের চেয়ে আরও বিধ্বংসী জবাব দেবে।’ তিনি জানান, ইরানের হাতে এমন অনেক ‘তুরুপের তাস’ রয়েছে যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। যুদ্ধের পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তেহরান যুদ্ধের নতুন পদ্ধতি আয়ত্ত করেছে, যা দিয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো আক্রমণ আরও সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালায়, যাতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা শহিদ হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান টানা ৪০ দিন ধরে ১০০টিরও বেশি দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরাইল এবং পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। ওই আলোচনায় ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করে, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানানো হয়। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, নৌ-অবরোধ বহাল রেখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয় এবং এই অবরোধ বহাল রাখা যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন।





