আজ (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিগত দিনের অবদানকে স্বীকার করি। কিন্তু আমি যখন ছাত্র আন্দোলন লিড করেছি, তখন জামায়াত-শিবিরের কারও সঙ্গে আমার কখনো আলোচনা হয়নি বা তাদের পরামর্শ নেয়ার সুযোগ হয়নি।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘আজকে অনেকে জুলাই নিয়ে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, জুলাই ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ফুটবল ম্যাচে কেউ হয়তো ৯০ মিনিটের খেলায় শেষ ৯ মিনিটে নেমে গোল দিয়ে দিতে পারে, তার মানে এই নয় যে তারাই সেরা খেলোয়াড়। যারা রাজপথে জীবন দিয়েছে, লড়াই করেছে, তারা কোনো কিংস পার্টি গঠনের জন্য রক্ত দেয়নি।’
আরও পড়ুন:
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়গুলো ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। আন্দোলনের আট দফা কর্মসূচি আমি নিজে লিখে দিয়েছিলাম। তখন সালাউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হতো। ১৯ জুলাই রাতে গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি জহির উদ্দিন স্বপন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলাপ করেছি।’
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে অগ্রণী’ উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘তিনি প্রবাসে থেকেও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন। ২০২২ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে তিনি যে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলেন, আজকের সরকার সেই সংস্কারই বাস্তবায়ন করছে। তারেক রহমানের ভিশন এবং মিশন আমরা মন্ত্রিসভায় কাজ করতে গিয়ে নিবিড়ভাবে অনুভব করছি।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘আপনারা তর্কের খাতিরে তর্ক বা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবেন না। সুরা বাকারার উদ্ধৃতি দিয়ে আমি বলব, আপনারা সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটাবেন না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করবেন না। বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা একটি অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।’
তিনি আগামী পাঁচ বছর সরকারকে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক পরামর্শের মাধ্যমে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান।





