ইসরাইলসহ চার মিত্রকে ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ওকলাহোমার কাছে ফোর্ট সিল আর্মি পোস্টের বাইরে একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল মোবাইল লঞ্চার
ওকলাহোমার কাছে ফোর্ট সিল আর্মি পোস্টের বাইরে একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল মোবাইল লঞ্চার | ছবি: সংগৃহীত
2

মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর কাছে ৮৬০ কোটি ডলারের (৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন) বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলো হলো—ইসরাইল, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই অনুমোদন দিলো। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু কাতারের কাছেই ৪০১ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম বিক্রি করা হবে। এর পাশাপাশি প্রায় ১০০ কোটি (৯৯ কোটি ২৪ লাখ) ডলারের লেজার-নির্দেশিত উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা (এপিকেডব্লিউএস) বিক্রির অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন সরকারের এই দপ্তর জানায়, কাতার সরকারের অনুরোধে এই প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে। এমন একটি সময়ে এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়া হলো, যখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শত্রুতার ‘অবসান’ ঘটেছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা থমকে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও লড়াই শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ফ্লোরিডায় এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজ করছেন, যা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক হুমকি এড়াতেই এটি জরুরি ছিল। তার দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন কোনো চুক্তির দিকে তাড়াহুড়ো করে এগোবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই মার্কিন শর্তগুলো মানতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে—এমন কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।


এএম