পশ্চিমবঙ্গে এবার চালকের আসনে বিজেপি। ভূমিধস জয়ের পরই সরকার গঠনে তোড়জোর শুরু করেছে দলটি। এরই মধ্যে বিধানসভার দলীয় পরিষদ বাছাই করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে আছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। সেখানেই ঠিক হবে পরিষদীয় দলনেতার নাম। তিনিই হবেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে অমিত শাহর সঙ্গে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও।
তবে কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা কল্পনা। আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম ঘোষণা না করলেও এ দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনি প্রচারণায় অমিত শাহের মুখে বার বার শোনা গেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন পশ্চিমবঙ্গেরই ভূমিপুত্র। এছাড়াও দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য, অগ্নিমিত্রা পাল, সুকান্ত মজুমদারসহ আলোচনায় আছে বেশ কয়েকজনের নাম।
আরও পড়ুন:
ক্ষমতার পালাবদলে দলবদলের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ফল প্রকাশের পরই তৃণমূলসহ অন্য দলের নেতারা বিজেপিতে যোগ দিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। তবে এবার অন্য কোনো দল থেকে কাউকে বিজেপিতে নেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির নেতারা। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের অনেক নেতাকে বিজেপিতে যোগ দিতে চাপ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, ফল প্রকাশের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কমেনি সহিংসতা। এরই মধ্যে সহিংসতায় মারা গেছে বেশ কয়েকজন। কলকাতায় নিউ মার্কেট এলাকায় বিজয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট গুড়িয়ে দেয় বিজেপির সমর্থকেরা। উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষ দমাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ন্যাজাট থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য। এছাড়া, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় তৃণমূল প্রার্থীদের বাড়ি ও কার্যালয় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং দখল করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী সহিংসতার মাঝেই কড়া বার্তা দিলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞাণেশ কুমার। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দাতা ও ভাঙচুর কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব, পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।





