দক্ষিণ লেবাননে ড্রোন যুদ্ধ: ভেস্তে যেতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রক্রিয়া

হিজবুল্লাহর ফাইবার অপটিক ড্রোন
হিজবুল্লাহর ফাইবার অপটিক ড্রোন | ছবি: আল জাজিরা
0

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ড্রোন যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হলো লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ হওয়া। তবে মাঠপর্যায়ে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে ড্রোন হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলা এই সংকট নিরসনের পথ ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর হিজবুল্লাহ বর্তমানে সস্তায় তৈরি এবং সহজে বহনযোগ্য ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ (এফপিভি) কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এই ড্রোনগুলো ইসরাইলের উচ্চপ্রযুক্তির জ্যামিং সিস্টেম ফাঁকি দিতে সক্ষম।

গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে হিজবুল্লাহ ২৮টির বেশি ড্রোন হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। আগে এসব ড্রোন কেবল সাঁজোয়া যান বা রাডার লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হলেও, বর্তমানে হিজবুল্লাহ সরাসরি ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই ড্রোন হামলায় অন্তত তিন ইসরাইলি সেনা ও একজন ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

জবাবে ইসরাইলও হিজবুল্লাহর ড্রোন চালকদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন যে, হিজবুল্লাহর এই খুদে ড্রোনগুলো মোকাবিলা করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ছোট আকৃতির এই ড্রোনগুলো খুব নিচ দিয়ে উড়ে আসায় রাডারে ধরা পড়ে না।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লোহা বা নাইলনের জাল ব্যবহার এবং রাইফেলের আধুনিকায়নের মতো স্বল্প প্রযুক্তির সমাধান খুঁজছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা দিনে দিনে ড্রোন চালনায় আরও দক্ষ হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে এই ড্রোন যুদ্ধ বন্ধ না হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি শান্তি পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে।

এএম