মার্কিন সাময়িকী ‘দ্য আটলান্টিক’-এ লেখা এক নিবন্ধে কাগান বলেন, ‘এই যুদ্ধে ওয়াশিংটনের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা আর পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।’ তার মতে, ‘এই সংঘাতের আগের স্থিতাবস্থায় ফেরার আর কোনো পথ নেই। এমন কোনো চূড়ান্ত বিজয়ও আসবে না যা দিয়ে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে।’
রবার্ট কাগান ১৯৯৭ সালে ‘প্রজেক্ট ফর দ্য নিউ আমেরিকান সেঞ্চুরি’ নামের একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পথ তৈরি করে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনকে উৎসাহিত করার পেছনেও তার মতবাদের বড় প্রভাব ছিল। দীর্ঘকাল মার্কিন হস্তক্ষেপবাদের পক্ষে সরব থাকা কাগানের মুখ থেকে এমন সতর্কবার্তা ওয়াশিংটনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কাগান তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ তেহরানকে এক অনন্য শক্তি এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রক হিসেবে ইরান এখন এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে, এমনকি বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে তাদের উত্থান ঘটেছে।’ তার মতে, এই যুদ্ধ কেবল চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষকেই শক্তিশালী করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে ওয়াশিংটনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার খুব সীমিত পথ খোলা আছে উল্লেখ করে কাগান বর্তমান সংকটকে ১৯৪১ সালের পার্ল হারবার বা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে তিনি মনে করেন, আগের যুদ্ধগুলোর মতো এবার যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তেহরান কোনোভাবেই এই কৌশলগত সুবিধা হাতছাড়া করবে না উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ট্রাম্পের সাথে যেকোনো চুক্তির ওপর ইরান কতটা ভরসা করতে পারবে?’
পিবিএস-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাগান ইসরাইলকেও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের শেষটা ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলের প্রভাব-প্রতিপত্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাত থেকে ইরান এবং তাদের সমর্থকদের দিকে চলে যাচ্ছে।’

-320x167.webp)



