এই তদন্তের মূলে রয়েছে ২০২১ সালে করোনা মহামারি চলাকালীন স্পেনের রাষ্ট্রীয় হোল্ডিং কোম্পানি ‘সেপি’ কর্তৃক প্লাস আল্ট্রা এয়ারলাইনসকে দেয়া ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরো (প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ ডলার) আর্থিক সহায়তা। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ব্যবসায়ী জুলিও মার্টিনেজ মার্টিনেজ ওরফে ‘জুলিতো’সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর এই মামলার মোড় ঘুরে যায়। ধারণা করা হয়, জুলিতোর সঙ্গেই জাপাতোরোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, জাপাতোরো তার প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন পরিবহন মন্ত্রণালয়কে ওই এয়ারলাইনসটিকে বড় অংকের অর্থ দিয়ে সহায়তার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে জুলিতোর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানালিসিস রেলিভান্ট’-এর একটি লেনদেনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ আছে, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জাপাতোরোর কাছে পৌঁছেছিল। ভিক্টর দে আলদামা নামে এক ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, জাপাতোরো কমিশন বাবদ ১ কোটি ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার) গ্রহণ করেছেন।
শুরু থেকেই প্লাস আল্ট্রাকে দেয়া ওই অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। সমালোচকদের মতে, এয়ারলাইনসটির আর্থিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না এবং এর মালিকানার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের যোগসূত্র ছিল। আদালত এখন খতিয়ে দেখছে যে, এই অর্থ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা অনৈতিক তদ্বির হয়েছিল কি না।
আন্দালুসীয় আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট হুয়ানমা মোরেনো দৈনিক এল পাইসকে বলেন, ‘স্পেনের ইতিহাসে এর আগে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন তদন্ত বা অভিযোগ দেখা যায়নি। এটি নজিরবিহীন এবং বর্তমান সরকারকে কাঁপিয়ে দেবে।’ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও আলাদা কয়েকটি দুর্নীতির তদন্ত চলায় রক্ষণশীল বিরোধী দল ‘পিপলস পার্টি’ এই সুযোগে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত স্পেনের ক্ষমতায় থাকা জাপাতোরো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানচেজের একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে আগে থেকেই তিনি বিরোধীদের সমালোচনার মুখে ছিলেন। তবে সংসদীয় কমিটির কাছে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।





