লাই চিং-তের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চীনের সঙ্গে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে একটি ‘ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। গত সপ্তাহে বেইজিং সফরে গেলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পকে তাইওয়ানকে সমর্থন না দিতে চাপ দেন। এরপরই ফক্স নিউজ ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেন, ‘তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ বিদেশি শক্তি নির্ধারণ করতে পারে না। ভয়ভীতি, বিভাজন বা স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ জিম্মি হতে দেয়া যাবে না।’ তিনি আরও বলেন,‘তার সরকার যুদ্ধ শুরু করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ রুখতেই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে।’ তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাইওয়ানের নিজস্ব সক্ষমতা থাকা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তাইপেই প্রশাসন কূটনৈতিকভাবে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বারবার বলছে যে তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং ট্রাম্প বেইজিংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তাইওয়ানের পার্লামেন্ট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা বিল অনুমোদন করেছে।
লাই চিং-তে তার ভাষণে চীনের সঙ্গে সমান মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক জীবনযাত্রার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। অন্যদিকে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর লাইয়ের এই ভাষণকে ‘মিথ্যা ও উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে লাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এমনটি ঘটলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক নীতির এক বড় ব্যত্যয়, যা চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে।





