প্রমাণ হিসেবে দুই দেশ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বেলারুশের গোপন এক বনাঞ্চলে সামরিক যান প্রবেশ করছে এবং লঞ্চারে ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই করা হচ্ছে। এই মহড়ায় সোভিয়েত আমলের ‘স্কাড’ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ ‘ইস্কান্দার-এম’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ন্যাটোর দেয়া কোডনাম ‘এসএস-২৬ স্টোন’ এই ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিডিওতে সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে বেলারুশের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের অপারেশনাল এলাকায় পারমাণবিক অস্ত্র পৌঁছে দেয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই পারমাণবিক মহড়া রাশিয়া ও বেলারুশজুড়ে এমন এক সময়ে চলছে, যখন বাল্টিক দেশগুলো নিয়মিত ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় আতঙ্কিত।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া এই মহড়ায় ৬৪ হাজার সামরিক সদস্য ও ৭ হাজার ৮০০টি সামরিক সরঞ্জাম অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, ১৪০টি ড্রোন, ৭৩টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১৩টি সাবমেরিন—যার মধ্যে ৮টি কৌশলগত সাবমেরিন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।
এদিকে রাশিয়ার এই মহড়ার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ জানিয়েছে, রুশ ও বেলারুশ বাহিনীর সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তারা উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার তার বক্তব্যে জানান, কিয়েভ ও চেরনিহিভসহ উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে তিনি শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।





