রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা স্ট্রেচারে করে হতাহতদের সরিয়ে নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার খবরে শোক প্রকাশ করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আহতদের সুচিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কোনো ধরনের প্রচেষ্টাই বাকি না রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি দুর্ঘটনার কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এরইমধ্যে খনিটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আটক করেছে পুলিশ। গ্যাস বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনো জানা না গেলেও খনির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা সহনীয় সীমার অনেক ওপরে পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। কার্বন মনোক্সাইড একটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং গন্ধহীন গ্যাস, যা খনি শ্রমিকদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদ্ধার তৎপরতা ত্বরান্বিত করতে চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ছয়টি উদ্ধারকারী দলের ৩ ৪৫ জন সদস্যকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে একটি কয়লা খনি ধসে ৫৩ জন এবং ২০০৯ সালে হেইলুংচিয়াং প্রদেশে খনি বিস্ফোরণে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। শানজি প্রদেশটি চীনের কয়লা রাজধানী হিসেবে পরিচিত হলেও এটি দেশটির অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা। বর্তমানে চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে রেকর্ড গড়লেও দেশটি এখনো বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ব্যবহারকারী রাষ্ট্র হিসেবে রয়ে গেছে।





