যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাত অবসানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। তেহরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, যেকোনো শান্তিচুক্তিতে অবশ্যই লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উল্লেখ্য, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হাইকাল গত ৬ জুন পাকিস্তান সফরে আসেন। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে লেবাননের একটি সূত্র জানিয়েছে, তার এই সফরটি মূলত বৃহত্তর শান্তি আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। গত ৯ জুন পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই সেনাপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জেনারেল আসিম মুনির লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে পৌঁছালে হাইকালকে একটি গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই শান্তি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লেবানন সংকট। হাইকাল যখন পাকিস্তান সফর করছেন, তখনই সীমান্তে সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। যদিও গত ৮ জুন ইরান ও ইসরাইল উভয়ই লড়াই থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করলেও ৯ জুন দাবি করেন যে, আলোচনাকারীরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘একেবারে শেষ পর্যায়ে’ রয়েছেন।
গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে রকেট ছোড়ে হিজবুল্লাহ। এরপরই মূলত লেবানন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে মাঝেমধ্যেই গোলাগুলি চলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা ‘প্রায় অর্জিত’ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ৭ জুন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় তা থমকে যায়। গত ১৭ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও ইসরাইলি বাহিনী তাদের সীমান্ত থেকে ১২ কিলোমিটার ভেতরে লেবাননের ভূখণ্ডে ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা ঘোষণা করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।





