তিন মাসব্যাপী এই লড়াইয়ে ইরান জয়ী হয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির প্রভাবশালী কট্টরপন্থিরা। তারা চান যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে আসন্ন আলোচনায় সরকার যেন কঠোর অবস্থান বজায় রাখে এবং পুনরায় অস্ত্রসজ্জাকে অগ্রাধিকার দেয়। তাদের বিশ্বাস, যেকোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ তারা শক্তি প্রয়োগ করে দমন করতে পারবে। অন্যদিকে, সাধারণ ইরানিরা শান্তিকালীন সুবিধা বা আর্থিক সচ্ছলতার জন্য মরিয়া। তারা চায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা সম্পদ এবং যুদ্ধের পর পাওয়া যেকোনো আর্থিক ছাড় যেন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
বার্লিনের ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’–এর ফেলো হামিদরেজা আজিজি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন এই চুক্তিটি নড়বড়ে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রকৃত সমস্যাগুলো শুরু হবে।’ রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের চারজন কর্মকর্তা ও একজন সাবেক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ ক্লান্ত সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দ্বিমুখী তলোয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যর্থ হলে আবারও দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যেমনটি গত জানুয়ারিতে হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দমন করা হয়েছিল।
আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে, তাতে ইরানের জন্য কিছু আর্থিক সুবিধা থাকতে পারে। কিন্তু ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে চরম মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার দরপতন এবং ব্যাপক বেকারত্বের কবলে। এর ওপর যুদ্ধের ফলে শিল্প ও অবকাঠামোর যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অর্থনীতিবিদ সাঈদ লায়লাজ বলেন, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ইরানের হাতে এখন সময় খুব সীমিত।
এদিকে কট্টরপন্থি শিবিরের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিচ্ছে। রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) টিকে থাকার স্বার্থে চুক্তিতে রাজি হলেও ‘পায়দারি ফ্রন্ট’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীটি এর ঘোর বিরোধী। তারা ক্ষুব্ধ যে সরকার এমন এক ‘শত্রুর’ সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে যারা যুদ্ধের প্রথম দিনেই তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। বাসিজ মিলিশিয়ার এক সদস্য হোসেন বলেন, ‘তারা এমন শত্রুর সঙ্গে চুক্তি করছে যারা আমাদের নেতাকে শহিদ করেছে। শুক্রবার তারা ইমামের খুনিদের সঙ্গে হাত মেলাবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনি-পরবর্তী যুগে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা আইআরজিসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা হয়তো হিজাবহীন চলাচলের মতো কিছু সামাজিক স্বাধীনতা দিলেও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না। হামিদরেজা আজিজি মনে করেন, সরকারের সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হলো তাদের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীকে বোঝানো যে এই চুক্তিটি আসলে ইরানের জন্য ভালো।





