মেক্সিকো-কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে কড়াকড়ি; ট্রাম্পের নিশানায় চীনা পণ্য

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর জাতীয় পতাকা
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর জাতীয় পতাকা | ছবি: রয়টার্স
0

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ‘ইউএসএমসিএ’ নবায়ন না করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই ঘোষণার মাধ্যমে ৩২ বছর বয়সী উত্তর আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১০ বছরের একটি ক্ষণগণনা শুরু হবে। মূলত চুক্তিতে আমূল পরিবর্তন আনতে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে মার্কিন প্রভাব বাড়াতে এই কৌশল নিয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চুক্তির ‘সানসেট ক্লজ’ বা অবসান সংক্রান্ত শর্ত অনুযায়ী, এই ঘোষণার ফলে ছয় বছরের একটি পর্যালোচনা পর্ব শুরু হবে। যদি তিন দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে, তবে ২০৩৬ সালের ১ জুলাই এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ইতিমধ্যে মেক্সিকোর সঙ্গে ২০ জুলাই থেকে তৃতীয় দফার আলোচনার সময় নির্ধারণ করেছেন। আমেরিকার মূল লক্ষ্য হলো গাড়িশিল্পে মার্কিন যন্ত্রাংশের ব্যবহার বাড়ানো এবং মেক্সিকোর মাধ্যমে চীনা পণ্য যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

২০২০ সালে নাফটার (এনএএফটিএ) পরিবর্তে ট্রাম্প নিজেই ইউএসএমসিএ চুক্তি চালু করেছিলেন এবং একে ‘সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও লাভজনক’ চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। কিন্তু মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে থাকায় ট্রাম্প এখন এই চুক্তির ওপর বিরক্ত। তিনি মুক্ত বাণিজ্যের চেয়ে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানিকৃত গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের পক্ষপাতি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র কেবল মেক্সিকোর সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা চালাচ্ছে, যেখানে কানাডাকে আপাতত পাশ কাটিয়ে রাখা হয়েছে। দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ্যপানীয় নিয়ে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধ এর অন্যতম কারণ। মেক্সিকোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি হলো, উত্তর আমেরিকায় তৈরি সব যানবাহনে অন্তত ৫০ শতাংশ যন্ত্রাংশ নির্দিষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হতে হবে। মেক্সিকোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা লক্ষ্য অর্জনের বিষয়ে একমত হলেও পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এশীয় যন্ত্রাংশের ব্যবহার কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিচ্ছে।


এএম