ট্রাম্পের এই বিশাল আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে। তার ও তার ছেলেদের প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’ এবং নিজস্ব ‘মেমে কয়েন’ থেকে তিনি ১২০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের আয়ের এই চিত্রটি কেবল আংশিক; কারণ তিনি এখনো তার ট্যাক্স রিটার্ন প্রকাশ করেননি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ঘণ্টায় যেখানে প্রায় ২০০ ডলার সম্মানি পাচ্ছেন, সেখানে ব্যবসায়িক খাত থেকে তার ঘণ্টায় আয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ডলার।
ট্রাম্পের এই বিপুল আয় নিয়ে এরই মধ্যে ‘স্বার্থের সংঘাত’ ও দুর্নীতির প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ক্রিপ্টো ব্যবসার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পর ওই দেশটিতে চিপ প্রযুক্তি পাঠানোর অনুমোদন দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারি নজরদারি সংস্থা ‘সিটিজেনস ফর রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড এথিকস ইন ওয়াশিংটন’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্ডান লিবোভিটজ বলেন, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের আয় যেমনই হোক না কেন, বর্তমান উপার্জনের কাছে তা নস্যি।
আবাসন ও গলফ ব্যবসা থেকেও ট্রাম্পের আয় অব্যাহত রয়েছে। মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে তার আয় ১০ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৭৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ডোরাল গলফ রিসোর্ট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গলফ কোর্স থেকে তিনি কয়েক শ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। পাশাপাশি অ্যাপল, মেটা ও টেসলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার থেকেও তার আয় বাড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি সরাসরি কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনে অংশ নেন না; তার তহবিলগুলো পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী বিষয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায় প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নজিরবিহীন।





