‘আদর্শ কখনো মরে না’: ট্রাম্পকে পাল্টা জবাব ইরানের

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিকৃতির নিচে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষের ঢল
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিকৃতির নিচে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষের ঢল | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব একসঙ্গে জড়ো হওয়ায় তাদের ‘এক আঘাতেই’ নির্মূল করা যেত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান।আজ (রোববার, ৫ জুলাই) তেহরান জানিয়েছে, আমেরিকার ‘কোনো সভ্যতাও নেই, ইতিহাসও নেই’। দ্য হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পরপরই রোববার খামেনির জানাজায় জনসমক্ষে হাজির হন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তার তিন ছেলে। তবে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি জানাজায় অনুপস্থিত ছিলেন। 

 আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র শাসন করে আসছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ৮৬ বছর বয়সে বিমান হামলায় নিহত হন তিনি।

ট্রাম্পের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানে জানাজায় বিপুল জনসমাগমের প্রসঙ্গ টেনে সেখানে সামরিক সুযোগের ইঙ্গিত দেন। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকায় এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সবাই একসঙ্গে সেখানে আছে। এক আঘাতেই [আমরা সবাইকে নির্মূল করতে পারতাম], কিন্তু আমরা তা করবো না। কারণ, তাহলে সমঝোতা করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ তিনি আরও জানান, খামেনির জন্য এত মানুষের শোক প্রকাশ দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। তার ধারণা ছিল, বহু ইরানি তার বিরুদ্ধে ছিলেন। ‘হয়তো এগুলো নকল কান্না’, বলেন ট্রাম্প।

ইরানের কড়া জবাব
তীব্র প্রতিক্রিয়ায় আর্মেনিয়ায় ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ জুলাই স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করা যুক্তরাষ্ট্র খামেনির মৃত্যুতে বিপুল শোকপ্রকাশের বিষয়টি কখনোই বুঝতে পারবে না। কারণ, তাদের ‘কোনো সভ্যতা নেই, ইতিহাস নেই, সম্মানও নেই’।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়েছে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। তোমরা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছ, কিন্তু বাস্তবে তোমরা এমন এক সুগন্ধির শিশি ভেঙেছো, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তোমরা এসব বুঝবে না, কারণ তোমাদের সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান কিছুই নেই।’

খামেনির শোকযাত্রা
শনিবার শুরু হওয়া খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা কয়েক দিন ধরে চলবে। এই উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে, আকাশসীমা সীমিত করেছে এবং তেহরানের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দিনের পরবর্তী সময়ে খামেনির মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেয়া হবে। এরপর আগামীকাল (সোমবার, ৫ জুলাই) রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল বের হবে। ইরানের পতাকায় মোড়ানো এবং কালো পাগড়ি রাখা খামেনির কফিনের পাশেই রাখা হয়েছে ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার আরও চার আত্মীয়ের কফিন, যার মধ্যে তার নাবালিকা নাতনিও রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেহরানের জানাজার কর্মসূচিতে ১ কোটির বেশি মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে তারা। রাজধানীর অনুষ্ঠান শেষে খামেনির মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকেও নিয়ে যাওয়া হবে।

এএম