ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ায় খাদের কিনারায় যুক্তরাষ্ট্র!

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

তীব্রতর হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধ। তবে এর প্রভাব পড়ছে মার্কিন অস্ত্রের মজুতে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিশেষ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রে চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি, এমন আশঙ্কা সামরিক বিশ্লেষকদের।

গেলো শুক্রবার (১০ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন ইরান সংঘাতে যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ। আর তার এমন বক্তব্যের পরপরই আবারও যুদ্ধ শুরু করে এই দু’দেশ। কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে বিপাকে পড়বে খোদ ওয়াশিংটন— এমনই এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।তেহরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত থাকলে মার্কিন অস্ত্রের মজুত তীব্র চাপের মুখে পড়বে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, গেল কয়েক দিনের মতো একই হারে অভিযান চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এমন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে যা ভারত-প্রশাস্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘাতের শুরুর দিকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং টিএইচএএডি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্রের মজুত কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে নেমে এসেছে- যা একপ্রকার নিশ্চিত।

এছাড়াও, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির আগে যুক্তরাষ্ট্র তার টিএইচএএডি ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধবিরতির সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও সাম্প্রতিক উত্তেজনা আবারও সেই মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে হারে যুদ্ধ চলছে সে হারে পুনরায় অস্ত্র উৎপাদনে গতি নেই। পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। চলতি বছরে নতুন কোনো টিএইচএএডি সরবরাহের সম্ভাবনাও নেই। ফলে যুদ্ধ-পূর্ব মজুতের পর্যায়ে ফিরতে অন্তত তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে- এমনটাও বলছেন অনেকে।

অবশ্য পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে কাজ চলছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন কার্যকর করেছেন। পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তিও করা হয়েছে। তবে এসব নতুন উৎপাদন খাত চালু করতে কয়েক বছর সময় লাগে এবং এর সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে না বলেও অভিমত বিশ্লেষকদের।

এসএইচ