ইকোসকের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের রোডম্যাপ উপস্থাপন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত
0

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি দেশের টেকসই উন্নয়নের রোডম্যাপ ও বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই) এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ‘৩আর’ (3R) কৌশল-রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্গঠন) এবং রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্নির্মাণ) গ্রহণ করেছে, যা দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের বার্ষিক ১৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। মূলত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি (এসডিজি ৭), অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (এসডিজি ৮) এবং অবকাঠামো (এসডিজি ৯) খাতে এই অর্থায়ন প্রয়োজন।

এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় ৩৭ শতাংশ অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে, যা তাৎক্ষণিক মেটাতে অন্তত ২৬১ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। এত বিশাল আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও চরম দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো এবং জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বন্যার ঝুঁকি কমাতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ‘সার্বজনীন জীবনচক্র-ভিত্তিক’ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে নারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই শুরু হওয়া এই হাই-লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এবারের আয়োজনে ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে উদ্ভাবনী ও রূপান্তরমূলক কর্মপন্থা নিয়ে বিশ্বনেতারা আলোচনা করছেন, যেখানে এসডিজি ৬, ৭, ৯, ১১ এবং ১৭-এর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এসএইচ